দক্ষ কর্মী পাঠানোর পথ সুগম করতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একটি নতুন সহযোগিতা স্মারক বা এমওসি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির আওতায় আগামী ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে পূর্ব এশিয়ার উন্নত দেশটিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থান শুরু হবে।
সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চুক্তি সই এবং কর্মী নিয়োগ চালুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
এর আগে গত রোববার উভয় দেশের দীর্ঘ প্রায় এক বছরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জাপান সরকারের মধ্যে ‘এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ক এই নতুন চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশের পক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এই চুক্তির নথিতে স্বাক্ষর করেন।
বর্তমান সরকারের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের দীর্ঘ ইতিহাসেও এটি একটি অন্যতম যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির কপি উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।
নির্ধারিত এই চুক্তির শর্তানুযায়ী, ২০২৭ সালের এপ্রিল মাস থেকেই জাপান বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে। চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছর এবং এই মেয়াদ সমাপ্ত হওয়ার পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছর বর্ধিত হবে, যার ফলে সামগ্রিক চুক্তির মেয়াদ দাঁড়াবে দীর্ঘ দশ বছর। এই ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে জাপানে গমনকারী বাংলাদেশি কর্মীরা নজিরবিহীন পেশাগত সুযোগ এবং পূর্ণাঙ্গ আইনি সুরক্ষা লাভ করবেন।
চুক্তির মূল সুবিধাসমূহ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন যে, এর মাধ্যমে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে উভয় দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে। এছাড়া এই কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের পেশাগত দক্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মীরা তুলনামূলক উচ্চ বেতন অর্জনের পাশাপাশি জাপানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস করার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন।
মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে জানান যে, এই চুক্তির আওতায় নিয়োজিত কর্মীরা স্থানীয় জাপানি শ্রমিকদের সম্পূর্ণ সমতুল্য আইনি অধিকার ও সুরক্ষাপ্রাপ্ত হবেন এবং কর্মক্ষেত্রগুলোতে নারী ও পুরুষ কর্মীরা সমান সুযোগ লাভ করবেন। বিশেষ করে বিদেশি নারী কর্মীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা কিংবা সন্তান জন্মদানের মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের চাকরিচ্যুতি বা বৈষম্যমূলক আচরণ করার সুযোগ রাখা হয়নি। অর্থাৎ গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসূতি হওয়ার কারণ দেখিয়ে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বাধ্যবাধকতামূলক বিধান এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশাল জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের পথ আরও অনেক বেশি প্রশস্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছে।
