গাজীপুর মহানগরের পূবাইলের হায়দরাবাদ এলাকায় রেললাইনের পাশে ডেকে নিয়ে সাবেক স্ত্রী আসমা আক্তারকে গলা কেটে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে রফিকুল ইসলাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে মাউরারটেক এলাকায় ঢাকা-জয়দেবপুর রেললাইনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আসমা আক্তার (১৮) নওগাঁর মান্দা থানার মৌনম এলাকার আবুল হোসেনের মেয়ে। তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে গাজীপুর মহানগরের খাইলকৈর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতেন।
আটক রফিকুল ইসলাম (২৮) নওগাঁর মান্দা থানার ডাংগা গ্রামের মৃত সিরাজ মণ্ডলের ছেলে। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন এবং গত ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন।
নিহতের বাবা আবুল হোসেন বলেন, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মালয়েশিয়াপ্রবাসী রফিকুলের সঙ্গে আসমার বিয়ে হয়। তার দাবি, আসমার নানা জোর করে এ বিয়ে দিয়েছিলেন। সম্প্রতি রফিকুল দেশে ফেরার পর পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় ২০ দিন আগে আসমা তাকে তালাক দেন।
তিনি আরও বলেন, তিন দিন আগে রফিকুল লোকজন নিয়ে তার বাড়িতে এসে আসমাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আসমা তার সঙ্গে যেতে রাজি হননি। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুরে মোবাইল ফোনে আসমাকে হায়দরাবাদ রেললাইন এলাকায় দেখা করতে বলেন রফিকুল।
অভিযোগ অনুযায়ী, আসমা সেখানে গেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলায় আঘাত করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, স্থানীয়রা রফিকুলকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। ঘটনাটি রেললাইনের সীমানায় হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আটক ব্যক্তিকে টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আলম বলেন, রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
