দুজনেই ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মির্জা ফয়সল আমীন বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর দেলাওয়ার হোসেন জামায়াত ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দাড়িপাল্লা প্রতীকে। নির্বাচনি মাঠে একে অপরের সমালোচনা করে বক্তব্য দিলেও মুখোমুখি হতেই দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র। দুই প্রার্থী একে অপরকে দেখা মাত্রই গাড়ি থেকে নেমে আসেন। এরপর পরস্পরকে আলিঙ্গন করে বুকে জড়িয়ে ধরেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দিতে এসে এ দৃশ্যের অবতারণা হয়। আলিঙ্গনের পর দুই প্রার্থী কুশল বিনিময় করেন এবং একসঙ্গে সভাকক্ষে প্রবেশ করেন।
আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে এলাকায় প্রচার-প্রচারণা জোরদার হয়েছে। দুই দলের নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এর মধ্যে মঙ্গলবার রাতে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের সঙ্গে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হট্টগোলের ঘটনাও ঘটে।
এমন পরিস্থিতিতে পরদিন দুই প্রার্থীর আলিঙ্গন ও সৌজন্য বিনিময় নির্বাচনি পরিবেশে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সাক্ষাতের সময় দেলাওয়ার হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘নির্বাচনের আজই আপনার সঙ্গে প্রথম দেখা হলো।’
জবাবে মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, ‘এটা আমার দুর্ভাগ্য, না তোমার সৌভাগ্য!’
তখন দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘দুজনেরই সৌভাগ্য, দুজনেরই দুর্ভাগ্য হতে পারে, ভাইয়া। দেখা করার যে জায়গাগুলো, সেসব জায়গায় আপনি থাকেন না।’
জবাবে ফয়সল আমীন বলেন, ‘শোনো দেলাওয়ার, তোমাকে বহু আগেই ভাইয়ার (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) নির্বাচনের সময় বলেছিলাম, তুমি প্রতিদিন আমার বাসায় চা খেতে আসবে। তুমি তো আসো না, আমি কী করব? তুমি শুধু দূরে দূরে থাকো।’
পরে দুই প্রার্থী পরস্পরের হাত ধরে সভাকক্ষে প্রবেশ করেন। মতবিনিময় শেষে তারা অন্য প্রার্থীদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন।
ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ সাধারণত খুব বেশি দেখা যায় না। নির্বাচনে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, তবে তা যেন ব্যক্তিগত বিদ্বেষে রূপ না নেয়।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘সব প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।’ ভোটাররা যেন নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি গত ২২ আগস্ট শূন্য ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর এ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
উপনির্বাচনে পাঁচটি দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন-বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াত ও সমমনা ১১ দলের মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৩ জন, নারী ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও নবগঠিত ভূল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে রয়েছে ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা।
বিধান চন্দ্র দাস/সালমান/
