কানাডার অন্যতম ব্যস্ত সামরিক ঘাঁটি ওয়েইনরাইটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার আলবার্টা প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ঘাঁটিটিতে একটি ‘গুরুতর ঘটনা’ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানায় মার্কিন বার্তাসংস্থা সিএনএন। তবে এতে কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন এবং আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা এখনো জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি এক ভিডিও বিবৃতিতে বলেন, ঘাঁটিতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার কারণে প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতিকে ‘চলমান ও স্পর্শকাতর’ উল্লেখ করে তিনি জানান, শিগগিরই এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হবে।
স্থানীয় প্রশাসন শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ওয়েইনরাইটের রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ জানিয়েছে, বিকেল ৪টার দিকে সহায়তার জন্য তাদের কাছে খবর আসে।
শনিবার গভীর রাতে স্থানীয় প্রশাসন জানায়, আগুন আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করবেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও আগুনের ঘটনাটিকে একটি ‘গুরুতর ঘটনা’ থেকে সৃষ্ট বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
হাসপাতালে জরুরি অবস্থা, রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম
ঘটনার পর আলবার্টার রাজধানী এডমন্টনে জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থায় ‘কোড অরেঞ্জ’ ঘোষণা করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামাল দিতে এ ধরনের জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সিএনএনের সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিসির প্রতিবেদনে রয়্যাল আলেকজান্দ্রা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওয়ারেন থিরস্কের বরাতে বলা হয়েছে, প্রতি ১৫ থেকে ২৫ বছরে একবার ঘটতে পারে এমন দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে অঞ্চলটি।
তিনি জানান, ওয়েইনরাইটের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো রোগীর চাপে পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রোগীদের এডমন্টনের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
এ ঘটনায় রয়্যাল আলেকজান্দ্রা হাসপাতাল, এডমন্টনের অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং আলবার্টার স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষের কাছে মন্তব্য জানতে চেয়েছে সিএনএন।
বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ
ওয়েইনরাইটের সামরিক ঘাঁটিটি প্রাদেশিক রাজধানী এডমন্টন থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। কানাডা সরকারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এটি দেশটির অন্যতম ব্যস্ত সেনাঘাঁটি। সেখানে কানাডিয়ান ম্যানুভার ট্রেনিং সেন্টার এবং থার্ড কানাডিয়ান ডিভিশন ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে। এডমন্টনে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের প্রশিক্ষণও এখানে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলতে, সড়কগুলো যান চলাচলের জন্য ফাঁকা রাখতে এবং জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া ওয়েইনরাইট স্বাস্থ্যকেন্দ্রে না যেতে বলা হয়েছে।
ম্যাকগিন্টি বলেন, কানাডার সশস্ত্র বাহিনী, কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রাদেশিক ও স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করছে। কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আলবার্টার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ও মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। এতে অনেক সাহসী সামরিক সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তার স্বল্প সময়ে এমন ঘটনা তিনি স্মরণ করতে পারছেন না। সাম্প্রতিক সময়েও এ ধরনের ঘটনার কথা তাঁর মনে পড়ে না।
কানাডার বিরোধীদলীয় নেতা পিয়েরে পলিয়েভর জানিয়েছেন, আগুনের ঘটনা নিয়ে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। উদ্ধারকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘সবাই ওয়েইনরাইটের জন্য প্রার্থনা করুন।’
