নাটোরের বনপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুভর্তি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলায় বাস ও ট্রাকের অজ্ঞাতপরিচয় চালকদের আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে বড়াইগ্রাম থানায় মামলাটি করেন বনপাড়া হাইওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আকবর হোসেন।
বড়াইগ্রাম থানার ওসি শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মঙ্গলবার ভোরে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে শরীয়তপুরের পাঁচ, পটুয়াখালীর দুই, রাজশাহীর দুই, ফরিদপুরের এক, নওগাঁর এক, ঝিনাইদহের এক ও অন্য জেলার দুই বাসিন্দা ছিলেন।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ট্রাকচালক আবুল কালাম আজাদ ও বাসের সুপারভাইজার সোহেল রানা ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় সোহেল রানা বাসটি চালাচ্ছিলেন বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। তবে নিহত ব্যক্তিরা দুই যানবাহনের চালক কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যদি নিহত ব্যক্তিরা চালক হন পরবর্তীতে আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি আরও জানান, হতাহত ব্যক্তিরা সবাই বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। তারা কেউ বাদী হয়ে মামলা করার জন্য থানায় আসেননি। পরে বনপাড়া হাইওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক আকবর হোসেন সড়ক নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করেন। মামলায় দুই পরিবহনের অজ্ঞাত চালকদের আসামি করা হয়েছে। হাইওয়ে থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করবে। এই দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে জেলা প্রশাসন সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছে সেই কমিটি।
এ ব্যাপারে জানার জন্য তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সরকারি নম্বরে বারবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়াও হতাহতদের জন্য যে সরকারি সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল তাও দেওয়া হয়েছে কিনা এ ব্যাপারেও জানা যায়নি।
এদিকে দুর্ঘটনাস্থলের আশেপাশে বাড়ির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হঠাৎ ভোরে ঘুম ভেঙে গেছে অনেকেরই। এমন একটি দুর্ঘটনা তাদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে বলে জানান অনেকেই। খুব জোরে কোনো শব্দ হলেই তারা আঁতকে উঠছেন।
একসঙ্গে এতগুলো মানুষের মরদেহ উদ্ধারকারী শাজাহান জানান, ঘুমের মধ্যেও মনে হচ্ছে মরদেহগুলো টেনে বের করছেন তিনি। এরকম অভিজ্ঞতা তার কখনোই ছিল না।
তিনি জানান, আল্লাহ যেন এই রকম দুর্ঘটনা না দেন এবং এই রকমভাবে মরদেহ বের করার দুর্ভাগ্যও যেন না হয় তার। এক যুগ আগে ঠিক ২০ অক্টোবরেই বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে তরমুজ পাম্প এলাকায় বীভৎস এক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। যেখানে ৩৭ জন একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছিলেন।
এরপর ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কের কদিমচিলান এলাকায় সাদিয়া তেল পাম্পের কাছে যাত্রীবাহী বাস এবং লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছিলেন।
