এবার দক্ষিণ ভারতের দুর্গাপুজোয় বাংলার শিল্পীর চমক! ‘পদ্মশ্রী’ প্রাপ্ত বিশিষ্ট প্রতিমাশিল্পী সনাতন রুদ্র পালের তৈরি দুর্গা প্রতিমা এবার পাড়ি দিল তথ্য-প্রযুক্তি শহর বেঙ্গালুরুতে। এই প্রথমবার। এবছর বেঙ্গালুরুর হোয়াইটফিল্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের পুজোর প্রধান আকর্ষণই প্রতিমা। পুরাণ আর শিল্পের মেলবন্ধনে এবার ২৪ তম বর্ষে ‘সূর্যরথ’ থিমে সেজে উঠছে পুজো। হোয়াইটফিল্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের দুর্গোৎসব বেঙ্গালুরুর বাঙালিদের কাছে বঙ্গ সংস্কৃতি চর্চার এক বড় পরিসর হয়ে উঠেছে। ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন ভাবনার মেলবন্ধনে এবছর তাদের পুজো দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করবে বলে আশাবাদী উদ্যোক্তা।
প্রতিমাশিল্পী হিসেবে সনাতন রুদ্র পালের নাম কে না জানে? তিনি ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানেও ভূষিত হয়েছেন। সনাতন রুদ্র পালের নির্মিত দুর্গাপ্রতিমা এই প্রথমবার পূজিত হবেন বেঙ্গালুরুতে। সেই বিশেষ আকর্ষণকে কেন্দ্র করেই এবছর সেজে উঠছে হোয়াইটফিল্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের দুর্গোৎসব। শিল্পী সনাতনের শিল্পকুশলতায় নির্মিত দেবীপ্রতিমা প্রথমবার বেঙ্গালুরুর পুজোপ্রাঙ্গণে দর্শনের সুযোগ পেতে চলেছেন শহরের দুর্গাপুজোপ্রেমীরা। হোয়াইটফিল্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লুসিএ) এবারের পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই ঐতিহাসিক শিল্প-উপস্থাপনা, যা প্রবাসে শারদোৎসবের আনন্দে যোগ করবে এক বিশেষ মাত্রা। প্রবাসের মাটিতে বাঙালির শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে উদযাপনের এই আয়োজন এ বছর ২৪তম বর্ষে পদার্পণ করছে।
গত বছর কেদারনাথ মন্দিরের আদলে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছিল ডব্লুসিএ। এবছর মণ্ডপের মূল ভাবনা ‘সূর্যরথ’। পৌরাণিক তাৎপর্য ও শৈল্পিক পরিকল্পনার মেলবন্ধনে তৈরি মণ্ডপ এবং সনাতন রুদ্র পালের নির্মিত দুর্গাপ্রতিমা মিলিয়ে দর্শনার্থীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়াই উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য। দুর্গাপুজো মানে তো শুধু দেবী আরাধনা নয়, বরং মিলন, আনন্দ ও সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের এক উৎসব। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে পুজোয় প্রতিদিন এখানে থাকছে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, নাচ ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের প্রতিটি দিনকে আনন্দমুখর করে তোলার পরিকল্পনা করেছেন উদ্যোক্তারা। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পৌঁছে দেওয়াও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

উৎসবের আনন্দ সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পুজোর প্রতিদিন দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে বিনামূল্যে ভোগপ্রসাদের ব্যবস্থা। দেবীদর্শন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সকলে একসঙ্গে ভোগ গ্রহণ করেন। তার মধ্যে দিয়েই ডব্লুসিএ-র দুর্গোৎসব হয়ে উঠবে সম্প্রীতি ও মিলনের এক সুন্দর পরিবেশ। ২৪ বছরের দীর্ঘ পথচলায় হোয়াইটফিল্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের দুর্গোৎসব বেঙ্গালুরুর বাঙালি সমাজে একটি পরিচিত সাংস্কৃতিক পরিসর হয়ে উঠেছে। ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন ভাবনার মেলবন্ধন ঘটিয়ে এবছরের পুজোও দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করবে বলে আশাবাদী উদ্যোক্তারা।
