ভারত ও চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পথ তৈরি করা একটি বিতর্কিত আইনের প্রয়োগ আপাতত স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘জাতীয় স্বার্থের’ কথা উল্লেখ করে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে ট্রাম্প ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের একটি বিলে স্বাক্ষর করেন। ওই আইনের আওতায় রাশিয়ার তেল কেনা শীর্ষ পাঁচ দেশ ভারত, চীন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান থেকে আমদানি করা পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ জন্য ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়, যার মেয়াদ ১৮ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা ছিল।
তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার এক দিন আগে, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে নির্বাহী আদেশ জারি করে আইনটির প্রয়োগ আপাতত স্থগিত করেন ট্রাম্প। এই ছাড় স্থায়ী নয়। পরবর্তী সময়ে চাইলে আবারও শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এ সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত ১০০ শতাংশ শুল্কের আশঙ্কা থেকে রেহাই পেল ভারত। এর আগে দেশটি জানিয়েছিল, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ভারত সতর্ক করেছিল, এ ধরনের শুল্ক শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে রাশিয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের আইন তৈরি হলেও তা কার্যকরে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল সরবরাহের জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তিও করেছে তাঁর প্রশাসন। চুক্তির আওতায় প্রথম দফায় যুক্তরাষ্ট্রের ৩ লাখ টন ডিজেল পাওয়ার কথা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার এই ডিজেল চুক্তির সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি এটিকে ‘দুর্বল সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন জেলেনস্কি। এ কারণে ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট বা নেতা বেছে নেওয়ার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এমএমটি
-20261017061620.jpg&w=1440&q=75)