ষাটের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খানের মরদেহ রাখা হয়েছে হাসপাতালের হিমঘরে। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বড় ছেলে দেশে ফেরার পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে। এর আগে পর্যন্ত হিমঘরেই রাখা হবে প্রয়াত এই অভিনেত্রীর মরদেহ।
গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান। তিনি জানান, নাসিমা খানের বড় ছেলে দেশে ফিরলে বৃহস্পতিবার তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে।
নাসিমা খানের বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। মায়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, অভিনেত্রীর ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল কয়েক বছর ধরে নিখোঁজ। জীবদ্দশায় দুই ছেলের কারও সঙ্গেই শেষবারের মতো দেখা হয়নি এই অভিনেত্রীর।
গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নাসিমা খান। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সদস্যও ছিলেন তিনি।
১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। এরপর ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে পরিচিতি পান তিনি।
তিনি আনোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম, রহমান, গোলাম মুস্তাফা ও আজিমদের মত গুণী অভিনেতাদের বিপরীতে কাজ করেছেন। শুধু ঢাকার চলচ্চিত্রেই নয়, তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরের চলচ্চিত্রেও সুনাম অর্জন করেছিলেন নাসিমা খান।
নাসিমা খানের জন্ম ১৯৪৪ সালের ৬ অগাস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান ছিলেন ব্যবসায়ী। পারিবারিক সূত্রেই ছোটবেলা থেকে সংস্কৃতির সঙ্গে তার পরিচয়।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন নাসিমা খান। তাঁর অভিনীত সিনেমার তালিকায় রয়েছে ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’।
