আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে সর্দি-কাশি, নাক বন্ধ বা ঠান্ডা লাগার সমস্যা লেগেই আছে। আজ জ্বর, তো কাল গলা ব্যথা। নাক দিয়ে জল পড়ছে, শোয়ার পরেই নাক বন্ধ, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। সেই সঙ্গে শুকনো কাশি তো আছেই। বেশির ভাগেরই প্রবণতা হল সামান্য ঠান্ডা লাগলেই বা সর্দি-কাশি হলে চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা না করেই অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলা। অনেকে তো আবার ইন্টারনেটে খুঁজে ওষুধের নাম জেনেও তা খেয়ে ফেলেন, তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না জেনেই। এমন প্রবণতার কারণেই অ্যান্টিবায়োটিক রেজ়িস্ট্যান্স বাড়ছে, চেনা ওষুধেও কাজ হচ্ছে না তেমন। তাই ওষুধ নয়, মরসুমি অসুখবিসুখ সারাতে কাজে আসতে পারে নানা পথ্য। সেগুলিও কাজ করবে অ্যান্টিবায়োটিকের মতোই।
মরসুমি জ্বর, সর্দি-কাশির টোটকা
যষ্টিমধু ও গোলমরিচের ক্বাথ
এক কাপ জলে কিছুটা যষ্টিমধু, গোটা গোলমরিচ ও কয়েকটি তুলসীপাতা দিয়ে ভাল করে ফোটাতে থাকুন। জল শুকিয়ে অর্ধেক হয়ে গেলে নামিয়ে নিন। হালকা গরম অবস্থায় এটি ধীরে ধীরে পান করুন। গলা ব্যথা, চুলকানি বা ঠান্ডা লেগে গলা বসে যাওয়ার সমস্যা, নাক থেকে জল পড়ার সমস্যা দূর করতে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
আখের গুড় ও কালো তিলের নাড়ু
কালো তিল ক্যালশিয়াম, আয়রন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সমৃদ্ধ। প্রথমে শুকনো খোলায় কালো তিল হালকা ভেজে গুঁড়ো করে নিন। এ বার কড়ায় গুড় গলিয়ে তার মধ্যে ভাজা তিলের গুঁড়ো মিশিয়ে পাক দিতে থাকুন। মিশ্রণটি একটু ঠান্ডা হলে ছোট ছোট নাড়ুর আকারে পাকিয়ে বয়ামে ভরে রাখুন। প্রতিদিন সকালে একটি করে এই নাড়ু খেতে পারেন। এতে সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা কমে যাবে।
শুকনো আদা ও ধনের চা
এক গ্লাস জলে কিছুটা শুকনো আদার গুঁড়ো এবং ধনে বীজ দিয়ে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন। সেই জল ছেঁকে চায়ের মতো পান করুন। চাইলে এতে সামান্য মধু মিশিয়ে নিতে পারেন। এই চা দিনে দু’বার করে খেলে শুকনো কাশি দূর হবে। অ্যালার্জির সমস্যাও কমবে।
বেসনের শিরা
বেসনের সঙ্গে দুধ, ঘি, হলুদ আর গোলমরিচ দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। একে বলা হয় বেসনের শিরা। এর মধ্যে দেওয়া যায় আদাও। সর্দি-কাশি হলে এটি দিনে দু’বার পান করলে আরাম পাবেন।
