ফখরুদ্দীন-হাসিনার হাত ধরেই দেশে স্বৈরাচারের উত্থান: মীর শাহে আলম
বগুড়াকে দীর্ঘদিন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। তিনি বলেছেন, গত ২০ বছর ধরে বগুড়ার মানুষ উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। উন্নয়নের সুফল দৃশ্যমান হতে কিছুটা সময় লাগলেও বগুড়ার উন্নয়নে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘বগুড়ার উন্নয়ন: সমস্যা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মীর শাহে আলম বলেন, কৃষিতে উদ্বৃত্ত বগুড়ায় বছরে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। অথচ সম্ভাবনাময় এই জেলাকে দীর্ঘদিন কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বগুড়াকে শিল্প, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নগরায়ণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আরাফাত রহমান কোকো প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। বগুড়া বহুমাত্রিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। তিনি জানান, বগুড়া সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলার উন্নয়নে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পৌরসভাগুলোর জন্য দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। বগুড়া ওয়াসা ও বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিসিক শিল্প পার্কের কাজ শিগগির শুরু হবে। সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নে বিভিন্ন মহাসড়ক চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহরের যানজট নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধনে প্রাথমিকভাবে ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যমুনার ভাঙন রোধ, পানি সংরক্ষণে ড্যাম্প স্টেশন নির্মাণ এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণেও পরিকল্পনা রয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত করার পাশাপাশি করতোয়া নদীর পাশ দিয়ে চার লেনের সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন। জাতীয় উন্নয়ন বরাদ্দের প্রসঙ্গ টেনে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো দেশকে সমান চোখে দেখেন। রংপুর সিটি করপোরেশন ও গোপালগঞ্জের উন্নয়নে বরাদ্দের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জন্য নয়; দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য। শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়াকে সরকারের ইতিবাচক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘হিন্দুরা কারও পকেটের লোক নয়, গত নির্বাচনে তাঁরা তা প্রমাণ করেছেন। তাঁরা স্বাধীনভাবে নিজেদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, আওয়ামী লীগ উত্তরাঞ্চলের মানুষকে উন্নয়নের নামে ধোঁকা দিয়েছে। মঈনুদ্দীন-ফখরুদ্দীন সরকারের সময়ও মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। অতীতের এসব অভিজ্ঞতা ভুলে গেলে চলবে না। শুধু গত ১৭ বছরের নির্যাতন নয়, গত ২০ বছরের নির্যাতন ও বঞ্চনার ইতিহাসও তুলে ধরতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘বট-গুপ্ত শুধু আওয়ামী লীগ বা জামায়াতে নেই, নিজেদের দলেও আছে। হিংসা থেকে অপপ্রচার চালিয়ে কোনো লাভ নেই। আসুন, ভালো কাজকে উৎসাহিত করি। বগুড়ার স্বার্থে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক হই।’ শহরের যানজট ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রতিটি বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়ার উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়া দীর্ঘদিন বঞ্চিত থেকেছে। এই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বগুড়ার উন্নয়ন করতে হবে। আমরা তা করব, ইনশাআল্লাহ। বিগত ২০ বছরে বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে যে ভণ্ডামি হয়েছে, আপনারা তার সাক্ষী। তিনি বলেন, বগুড়ার প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বগুড়ার সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আরাফাত রহমান কোকোর নামে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হলেও সেটি অবহেলা ও অযত্নে পড়ে ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। বগুড়ার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে রুমন বলেন, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের কোথাও ন্যূনতম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘আপনারা সত্যকে সত্য হিসেবে তুলে ধরুন। আপনাদের অবাধ স্বাধীনতা রয়েছে। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে তা কারও বিরুদ্ধে গেলেও আমরা স্বাগত জানাব।’ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরামের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ ইসলাম আলমগীর পাভেল, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, বগুড়া সিটি প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কুদরত-ই-জাহান, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, বগুড়া টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোহন আকন্দ এবং নাজ গার্ডেনের স্বত্বাধিকারী শোকরানা প্রমুখ।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার নতুন আশায় মোংলা বন্দর
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা এবং আধুনিকায়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে বন্দরের জেটি এলাকায় পৌঁছে সম্প্রসারণ প্রকল্প, জেটি সুবিধা ও কনটেইনার ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো পরিদর্শন করেন তিনি। একই সফরে সুন্দরবন, নৌঘাঁটি, প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল ও অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে উন্নয়ন সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান বাড়ার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার সকালে উপকূলীয় দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পর্যালোচনা এবং মোংলা বন্দরের সক্ষমতা দেখতে সরকারি সফরে ওই অঞ্চলে যান তারেক রহমান। এর আগে হেলিকপ্টারে সুন্দরবন ও খুলনার উপকূলীয় এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নৌপথে যাত্রা করে দুপুর ১টার কিছু আগে নৌবাহিনীর বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে পৌঁছান তিনি। সেখানে নৌবাহিনী, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। সভা ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেলে বন্দরের জেটি পরিদর্শনে যান তিনি। বিকেল ৩টার দিকে বন্দরের প্রধান ফটক দিয়ে জেটি এলাকায় প্রবেশ করেন তারেক রহমান। এ সময় সেখানে জড়ো হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে তিনি বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প, জেটি সুবিধা, কনটেইনার ইয়ার্ড, পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম ও সংরক্ষণব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। বন্দরের বিদ্যমান অবকাঠামো এবং চলমান উন্নয়নকাজের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখেন তিনি। এ সময় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। বন্দরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানো, দ্রুত পণ্য খালাস এবং আধুনিকায়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি। বন্দর পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্ধারিত স্থান ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। ওই অঞ্চলের চলমান ও প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন। সফরকালে সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট এলাকায় প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল এবং ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। মোংলা বন্দর ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৌপথের নাব্যতা রক্ষা, নতুন শিল্প স্থাপন এবং জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বাড়বে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। ব্যবসায়ী ফিরোজ আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে তাঁরা উন্নয়নের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। চীনের সঙ্গে মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন নিয়ে হওয়া চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বন্দরের কার্যক্রম বাড়বে এবং এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরবে বলে আশা করেন তিনি। ব্যবসায়ী হেমায়েত উদ্দিন বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে। নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে মোংলায় বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে। পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি। বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের জেটি, সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট এলাকায় প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল এবং নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেছেন। তাঁর আশা, অসম্পূর্ণ জেটি নির্মাণ ও ড্রেজিংসহ থমকে থাকা প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বাড়বে। মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী বলেন, মোংলা বন্দরের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ও এফএসআরইউ নির্মিত হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বাড়বে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করেন তিনি। মোংলা বন্দর দিয়ে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরাও প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি আব্দুল হক বলেন, রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি থেকে মোংলা বন্দরে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসে। তবে এ ক্ষেত্রে বারভিডা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে এ বৈষম্য নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই ব্যবসায়ী নেতা। বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শেখ সাহেদ আলী রবি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমাতে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এ জন্য বন্দর চ্যানেলের নাব্যতা বাড়াতে ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি মোংলা কাস্টমস হাউস ও শুল্ক বিভাগের আধুনিকায়ন প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর সফর এসব উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে আশা করেন তিনি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের ফলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় কাজ হারানো মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও এসব উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করছেন। তাঁর মতে, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় অর্থনীতি, অবকাঠামো ও মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে ‘স্নাইপারের অভাব ছিল’, সেই বাবা-ছেলেকে ঢাকার ডিবিতে হস্তান্তর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘স্নাইপার’ সংক্রান্ত মন্তব্য করে গ্রেপ্তার মো. আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে তার বাবাকেও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বাবা-ছেলেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৫। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এসআরবি-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়সল ইশতিয়াক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আবু বকর সিদ্দিক ও তার বাবা আয়নাল হককে ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আবু বকর সিদ্দিক রাজশাহীর নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি রাজশাহী মহানগরের চন্দ্রিমা থানার কেচুয়াতৈল এলাকায়। পেশায় কৃষক তার বাবা আয়নাল হক। চার ভাইবোনের মধ্যে আবু বকর সবার বড়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পড়াশোনার পাশাপাশি ভ্যানে সবজি পরিবহনের কাজ করেন আবু বকর। প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর ঘিরে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজের পোস্টে শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যটি করেন আবু বকর। তবে ছেলের ফেসবুক মন্তব্যের ঘটনায় তার বাবা আয়নাল হককে কী কারণে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শনিবার যে দুই জেলায় সর্বাত্মক অবরোধ ঘোষণা!
রাঙামাটির সাজেকে সড়ক অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগ এনে আগামী শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় অর্ধদিবস সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এসময় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহবায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কারবারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা যৌথ বিবৃতিতে দুই জেলায় শনিবারের অবরোধে সংগঠন দুটির সংহতি প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, সাজেকে জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আহূত শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদ এবং সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি উষাতন চাকমা জানান, শনিবার সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই জেলায় সড়ক ও নৌপথে অবরোধ চলবে। কর্মসূচি সফল করতে পার্বত্য চট্টগ্রামের সব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগঠন এবং রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার যানবাহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। তবে অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীবাহী গাড়ি, শববাহী যান, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন এবং সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়ি।

প্রোটোকল ভেঙে জনতার সঙ্গে মিশে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ মোংলা বন্দর জেটি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দিকে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে তিনি নেতা-কর্মীদের টানে নিজেই প্রটোকল ভেঙে গাড়ি থেকে নেমে মিশে যান জনগণের সঙ্গে। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বন্দর জেটিতে প্রবেশ করেন তিনি। প্রায় ৫০ মিনিট বন্দর জেটি অবস্থান করেন। এরপর সোয়া ৪টার পর তিনি জেটি থেকে বের হয়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যান। অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন শেষে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে তিনি মোংলা বন্দর ত্যাগ করেন। এর আগে সকালে মোংলা বন্দরের হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে যান খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ানে। নলিয়ান থেকে নৌপথে দুপুর পৌনে ১টার দিকে আসেন মোংলার দিগরাজ নৌ ঘাঁটিতে। নৌঘাঁটিে এসে তিনি নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ বিএনএস আবু বকর পরিদর্শন করেন। পরে দুপুরে মধ্যাহ্ন বিরতি করেন নৌঘাঁটিতেই। সেখান থেকে বের হয়েই মোংলা বন্দর জেটি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মোংলা বন্দর জেটি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনকালে মোংলা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সাংসদ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। এছাড়াও ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসক।

