নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছিল পরিবার। সেই অসহায়তাকেই হাতিয়ার করে এ বার তন্ত্রসাধনার নামে প্রতারণার ছক৷ হারিয়ে যাওয়া যুবককে বাড়ি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফোনে দাবি করা হল হরিণের দুধ, চামড়া-সহ একাধিক সামগ্রী। সেগুলি জোগাড় করতে না পারলে দিতে হবে সাড়ে তিন হাজার টাকা! এমনকী, টাকা পাঠানোর জন্য পরিবারের মোবাইলে পাঠানো হয় স্ক্যানার কোডও। এই ঘটনায় আতঙ্কিত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে সিউড়ি থানার।
লাল্টু বাউড়ির কথায়, ফোনে হুমকি দিয়ে জ্বালাতন করা হচ্ছে, অথচ ছেলের বিষয়ে কোনও প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না। রঞ্জনের কাকা রবিন বাউড়িও জানান, সকাল ১১টার মধ্যে সামগ্রীগুলি দিলে ছেলেকে ফেরানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
সিউড়ি থানার লাঙুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা লাল্টু বাউড়ির ২২ বছরের ছেলে রঞ্জন মানসিক অসুস্থ। কয়েক মাস আগে বর্ধমানে চিকিৎসা করাতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে স্টেশন থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় সে। বহু খোঁজাখুঁজির পরেও ছেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ছেলেকে ফিরে পেতে মেলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার লাগিয়েছিলেন পরিবারের লোকজন। অভিযোগ, সেই পোস্টারে থাকা ফোন নম্বর থেকেই প্রতারকরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকতে পারে। জানা যায়, শনিবার সকালে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে রঞ্জনের বাবার কাছে। দাবি করা হয়, তন্ত্রসাধনার জন্য বিশেষ কয়েকটি সামগ্রী প্রয়োজন। সেগুলি না দিলে রঞ্জনকে বিক্রি করে দেওয়া হবে বলেও ভয় দেখানো হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সামগ্রীগুলি পৌঁছে দেওয়ার শর্তও দেওয়া হয়। ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত গোটা পরিবার।
লাল্টু বাউড়ির কথায়, ফোনে হুমকি দিয়ে জ্বালাতন করা হচ্ছে, অথচ ছেলের বিষয়ে কোনও প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না। রঞ্জনের কাকা রবিন বাউড়িও জানান, সকাল ১১টার মধ্যে সামগ্রীগুলি দিলে ছেলেকে ফেরানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না। ইতিমধ্যে ঘটনায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে গোটা পরিবার। সিউড়ি থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, নিখোঁজ যুবকের খোঁজে পরিবারের মরিয়া চেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে টাকা হাতানোর উদ্দেশ্যেই এই ফোন। তন্ত্রসাধনার ভয় দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যে ফোন নম্বর থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, সেই নম্বরও ট্র্যাক করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
