সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াব জানিয়েছিল, বাজারে দাম সমন্বয় করলে বাড়বে আমদানি, সব ধাপেই স্বাভাবিক হবে সরবরাহ। কিন্তু অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহেও স্বাভাবিক হয়নি এলপিজির বাজার।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখনো তাদের গাড়ি আটকে থাকছে আমদানিকারক পর্যায়ে। ৩ থেকে ৪ দিন পর ট্রাক আসলেও চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাচ্ছেন না তারা।
সংকটের কথা উল্লেখ করে পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, ১২ কেজির ১৪৭ পিস মাল আসতে তিন দিন সময় লাগছে। আমরা পাইকারিতে মাল সরবরাহ করার পর একজন দোকানদার ভাগে মাত্র পাঁচ থেকে সাতটি করে পণ্য পাবেন। আমি তিন দিন আগে গাড়ি পাঠিয়েছি, কিন্তু এখন কবে মাল পাব, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। একটি গাড়ি পাঠানোর পর সেটি কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ দিন প্ল্যান্টে পড়ে থাকে। ফলে মাল আসতে দেরি হয়, আর এতে অতিরিক্ত খরচও হয়।
এদিকে লোয়াব বলছে, চলতি মাসে এলপিজি আমদানি হবে মোট দেড় লাখ টনের বেশি, যা চাহিদার বিপরীতে যথেষ্ট। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বাড়তি দামের ফলে দেশে আনতে বেশি সময় লাগছে। কিন্তু এতে বাজারে বড় সংকট হওয়ার কারণ দেখছেন না তারা।
এদিকে লোয়াবের সহসভাপতি হুমায়ুন রশীদ জানান, সমন্বয়ের মাধ্যমে এ মাসে বাজারে এলপিজির সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। কোথাও এলপিজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে না। আমরা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টন এলপিজি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছি। এ ক্ষেত্রে দুটি প্রোকিউরমেন্ট ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা যখন স্পট মার্কেট থেকে এলপিজি কিনি, তখন কখনও কখনও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে কার্গো আসে। যেমন, যে কার্গোটি ১০ তারিখে আসার কথা ছিল, সেটি এসেছে ১৫ তারিখে। এই পাঁচ দিনের ব্যবধানের কারণে ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে থাকে। তখন তারা মনে করে, সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। আর এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।
তবে আমদানিকারকদের এমন বক্তব্য মানতে নারাজ পরিবেশকদের সংগঠন—এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। বিইআরসির মধ্যস্থতায় আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় সংগঠনটি।
অন্যদিকে, এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অর্থ সম্পাদক আবু তাহের কোরেশী জানান, বিইআরসি বলছে, গত ছয় মাসের অনুপাত অনুযায়ী বাংলাদেশে যে পরিমাণ গ্যাস আমদানি হওয়ার কথা ছিল, তার জন্য এলসি খোলা হয়েছে এবং গ্যাসও দেশে এসেছে। কোম্পানিগুলোও বলছে, তাদের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস রয়েছে। কিন্তু তাহলে আমাদের গ্যাস দেয়া হচ্ছে না কেন? যদি কোম্পানিগুলোর কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস থাকে, তাহলে তাদের গ্যাস সরবরাহ করতে বলুন। আজ আপনারা সবাই চলুন, আমরা একসঙ্গে বসি এবং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলি। সমস্যাগুলো কোথায়, আসলে এলপিজি গ্যাসের সংকটের মূল কারণ কী—তা খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মূল্য ঘোষণা করাই শেষ নয়, আমদানি থেকে সরবরাহ পর্যন্ত সব পর্যায়েই তদারকির দায়িত্ব নিতে হবে বিইআরসিকে।
তবে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন কি না, সে বিষয়ে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত হতে হবে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করা ও মজুত গড়ে তোলার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার সরকার ও রাষ্ট্রের রয়েছে। তাহলে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?
এলপিজির বাজার স্বাভাবিক করতে হলে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে নেওয়া বিপিসির ব্যবস্থাপনায় আমদানিকে দ্রুত বাস্তবায়নের পরামর্শও বিশেষজ্ঞদের।
