Published on
:
2 min read
দিব্যেন্দু সরকার, রানাবাঁধ
থিমের রমরমা এবার লক্ষ্মীপুজোতেও। কোথাও তুলে ধরা হয়েছে নারী নির্যাতন, নারীশক্তি, কোথাও আবার পল্লিজীবনের ইতিকথা। কোথাও আবার জায়গা করে নিয়েছে সাম্প্রতিক ঘটনাবলিও, যেমন, শ্রাবণী মেলা, আকাশপথে পুষ্পবৃষ্টি। থিমের বৈচিত্রে ভরা তারকেশ্বরের লক্ষ্মী গ্রাম বেলবাঁধ ও রানাবাঁধের মানুষ লক্ষ্মী আরাধনায় মাতোয়ারা। আজ, রবিবার থেকেই শুরু লক্ষ্মী গ্রামে লক্ষ্মী মেলা।চলবে পাঁচ–ছ’দিন ধরে। সবথেকে বড় কথা, লক্ষ্মীপুজোতেই সামিল হতে আসেন বিভিন্ন এলাকা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ। তাই নিরাপত্তাও আঁটোসাঁটো। অগ্নি নির্বাপণের ক্ষেত্রেও যাবতীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে। স্থানে স্থানে পুলিশ ক্যাম্প। ঘন ঘন অভিযান। তারকেশ্বর তথা হুগলির অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী এই এলাকার লক্ষ্মীপুজোকে সর্বাঙ্গীণ সুন্দর করতে এক দিকে যেমন তৎপর পুজো উদ্যোক্তারা, অন্য দিকে পুলিশ ও প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতিও তুঙ্গে। উল্লেখ্য, এবারে এই এলাকায় বড় বড় মোট ১২টি পুজো হচ্ছে একেবারে সমস্ত নিয়ম–কানুন মেনেই। আর তার সঙ্গে পারিবারিক ঐতিহ্যবাহী পুজো হচ্ছে দু’টি। এলাকার বেলবাঁধ, রানাবাঁধ, নাইটায় এই পুজোগুলো হচ্ছে। এই এলাকাজুড়ে রাস্তার দুই পাশে মেলার শতাধিক দোকান ও অন্যান্য পসার সেজে উঠেছে।
এ দিকে, তারকেশ্বরের নাইটামাল পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কয়েকটি গ্রামে দুর্গা বন্দনা হয় না, কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায়, লক্ষ্মীই এলাকার মানুষের মূল আরাধ্যা। তাই দুর্গাপুজোর বদলে লক্ষ্মীপুজোতেই এখানে জাঁকজমক রীতিমতো চোখে পড়ার মতো। মূলত তারকেশ্বরের জগন্নাথপুর, রানাবাঁধ, বেলবাঁধ এলাকায় আড়ম্বরে দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয় না বললেই চলে। পরিবর্তে, বাড়ি বাড়ি লক্ষ্মীর আরাধনায় যেমন মেতে ওঠেন এখানকার মানুষ, অন্য দিকে, এলাকায় বিভিন্ন ক্লাবের উদ্যোগেও লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করা হয়ে আসছে বিগত ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে। ক্লাবের মণ্ডপগুলিতেই থিমের প্রাচুর্য বেশি করে চোখে পড়ে। কোনও মণ্ডপের থিম করা হয়েছে ‘নারী নির্যাতন নারীশক্তি’, কোনওটা আবার চাইনিজ ড্রাগন টেম্পেল ,কোথাও বিষয় ‘হচ্ছে দূষণ, হও সচেতন।’ মোটামুটি সব ক্লাবের পুজোমণ্ডপ থেকেই একাধিক সামাজিক সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিগত কয়েক বছর ধরে এই এলাকার লক্ষ্মীপুজোর থিমের বৈচিত্র এতটাই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে যে, শুধু হুগলি জেলা নয়,পার্শ্ববর্তী হাওড়া, বর্ধমান–সহ বেশ কয়েকটি জেলা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। মেলা উপলক্ষে একাধিক পদক্ষেপ করেছে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ। ইতিমধ্যেই একাধিক পুজোমণ্ডপ ঘুরে দেখেছেন জেলা পুলিশ অধিকারিকরা।
এক পুজো কমিটির কর্তা শুভঙ্কর ধাড়া বলেন, ‘এলাকাটি কৃষিপ্রধান হওয়ায়, বহু বছর ধরে মা লক্ষ্মীরই আরাধনা করে আসছেন এই এলাকার মানুষজন। দুর্গাপুজো হলেও, তাতে তেমন মাতেন না এলাকার বাসিন্দারা। এখানে মা লক্ষ্মীরই আরাধনা করা হয়। পুজো বাদেও সান্ধ্য অনুষ্ঠানে থাকে নানান শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান। এলাকার সমস্ত কৃতী ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া হয় বিশেষ সংবর্ধনা ও স্কলারশিপ।’ অন্য এক পুজো কমিটির সদস্য অচিন্ত্য বেরা বলেন, ‘এখানে যে ভাবে লোক সমাগম হয়, তা সামাল দিতে হিমসিম খেয়ে যেতে হয় সবাইকে। ভিন জেলা, এমনকী ভিন রাজ্য থেকেও মানুষজন আসেন লক্ষ্মীর আরাধনায়।’
