প্রথম সপ্তমীর দিন চোরবাগান দুর্গোৎসবের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন শুভম শঙ্কর। শুক্রবার বিকেলে সেই যুবতীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, এই ঘটনায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে সেই রিপোর্ট জনসমক্ষে আনা হবে।
এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর পরিবার জানায়, প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘মৃত্যুর কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না, কিন্তু সরকারের একটা দায়বদ্ধতা থাকে।’’ সরকারের তরফে ৫ লক্ষ টাকা এবং মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরও ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে পরিবারের কাছে। পরিবারের এক সদস্যের চাকরির বিষয়টিও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানানো হয়।
দুর্ঘটনার কারণ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী একে মানুষেরই ত্রুটি বলেই উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ঘটনার পর নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি সিট গঠন করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটিতে কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশকে রাখা হয়নি, যাতে তদন্তে কোনও রকমের পক্ষপাতিত্বের প্রশ্ন না ওঠে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে নিরপেক্ষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে তারা রিপোর্ট পেশ করবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে যা সুপারিশ করা হবে, সরকার তা একশো শতাংশ কার্যকর করবে এবং রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিধানসভা ও সংবাদমাধ্যমের সামনে তা তুলে ধরা হবে।’’
তিনি উল্লেখ করেন, এ বছর রাজ্যে মোট ৬৬ হাজার দুর্গাপুজো হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫৮ হাজার পুজো সরকারি অনুদান পেয়েছিল। অধিকাংশ জায়গাতেই শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হলেও, চোরবাগানের ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২৬ তারিখ কলকাতা, হাওড়া ও বিধাননগরের প্রায় আট হাজার পুজো কমিটিকে নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবং নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার ওপর আরও কড়া নজর দিতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
