দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় ঘর থেকে মা ও তার দুই শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় ঘরের দেয়ালে হাতে লেখা বেশকিছু আবেগঘন ও স্পর্শকাতর বার্তা পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী শাকিল, শ্বশুর মাহাতাব উদ্দিন ও শাশুড়ি ইসমত আরাকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
এদিকে, নিহতের শোয়ার ঘরের দেয়ালে হাতে লেখা কয়েকটি বার্তা পাওয়া গেছে। একটি দেয়ালে লেখা ছিল, ‘আজ থেকে এই গল্প শেষ। আমার সন্তানদের পুলিশের কাছে দিয়েন না। আমি অভাগি মা নিজে মারছি। আমাদের লাশ পলাশবাড়ি মাটি দেন। সাকিল যেন না ছোঁয়। মা-বাবা সরি, আই লাভ ইউ।’ অন্য একটি দেয়ালে লেখা ছিল, ‘সাফায়াত রাইসা-মনি, আই লাভ ইউ কলিজা পাখিরা আমার।’
গতকাল রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর বালুপাড়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাদের মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন- মোস্তফাপুর গ্রামের মাহাতাব হোসেনের ছেলে শাকিলের স্ত্রী স্বর্ণা আক্তার (২৩), তার চার বছর বয়সী ছেলে সাফায়েত হোসেন ও এক বছর বয়সী মেয়ে রাইসা আক্তার।
জানা গেছে, গতকাল রোববার বিকেলে পারিবারিক কলহের জেরে স্বর্ণা নিজ ঘরে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর নিজে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেন।
তবে নিহতের স্বজনরা এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, স্বর্ণা ও তার দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নূর আমিন শাহ বলেন, শাকিল আমার প্রতিবেশী। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছি।
চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক অশান্তির জেরে ওই নারী দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর নিজে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় স্বামী শাকিল হোসেনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ওই তিনজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন জানান, মরদেহগুলোর ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
