গ্রেপ্তার অপূর্ব। ছবি: খবরের কাগজ
-->নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফর জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির হত্যায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভূঁইয়া শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
এর আগে, রবিবার দুপুরে দুর্গাপুর থানা-পুলিশ অপূর্বকে আদালতে পাঠায়। তখন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্গাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুল ইসলাম তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে বিচারক অপূর্বকে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি আবেদনের ওপর শুনানির জন্য সোমবার দিন নির্ধারণ করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, অপূর্বের পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি।
আরও পড়ুন
এর আগে, শনিবার রাত ১২টার দিকে দূর্গাপুর উপজেলা সদরের অনামিকা সিনেমা হলের সামনে থেকে অপূর্বকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার শমসের আলীর ছেলে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ খবরের কাগজকে জানান, গত বছরের ৯ জানুয়ারি দূর্গাপুরে শফিকুল ইসলাম নামে এক এসআইকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছিল। জামালপুরে কর্মরত ওই এসআইয়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন অপূর্ব। গ্রেপ্তারের পর তিনি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছিলেন। ওই বছরেরই ৯ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
ওসি আরও বলেন, ‘সাংবাদিক আলিফ ও এসআই শফিকুলের চেহারার মিল ছিল। ধারণা করা হয়, আলিফ ভেবেই শফিকুলকে হত্যা করা হয়। আলিফ নিজেই তাকে (ওসি) এ কথা জানিয়েছিলেন। এ কারণেই অপূর্বকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাছাড়া অপূর্বের সঙ্গে এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর ঘনিষ্টতা রয়েছে। ওই শীর্ষ সন্ত্রাসী অস্ত্রসহ অন্তত ১২টি মামলার পলাতক আসামি। তবে আলিফ হত্যায় জড়িত থাকার কথা এখনও স্বীকার করেনি অপূর্ব।’
গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দূর্গাপুরের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় দুর্বৃত্তের ৫-৬ রাউন্ড গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফর জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির। তিনি ‘রূপসী বাংলা’ নামক একটি আইপিটিভিতে সাংবাদিকতা করতেন।
পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামক একটি সংবাদভিত্তিক পেজ পরিচালনা করতেন। পেজে এলাকার মাদক ব্যবসা, চোরাচালান, বালুমহালের লুটপাট প্রভৃতি অনিয়ম, অপরাধ ও দুর্নীতি নিয়ে লেখালেখি এবং ভিডিও প্রচার করতেন তিনি। এ কারণে অনেকে ক্ষুব্ধ ছিল তার ওপর।
এসএস/অলি/
