আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুর্গাপুজোর আনন্দে সামিল হতে শহর ও শহরতলির পথে মানুষের ঢল নেমেছিল। আর সেই ভিড় সামাল দিয়ে যাত্রী পরিবহণে নতুন রেকর্ড গড়ল পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত মাত্র পাঁচ দিনে শিয়ালদহ ডিভিশনে ট্রেনে যাতায়াত করেছেন ২ কোটি ৬৩ লক্ষ ৩৯ হাজার ৬৯৮ জন যাত্রী। গত বছরের তুলনায় যাত্রীসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩৩.৪৪ শতাংশ।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, দুর্গাপুজো ২০২৬-এর উৎসব গত বছরের তুলনায় একদিন বেশি ছিল। এবছর সপ্তমীও এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় যাত্রী চলাচল বেড়েছে। তবে বিপুল যাত্রীচাপ সামাল দিতে আগেভাগেই একাধিক পদক্ষেপ করেছিল শিয়ালদহ ডিভিশন।
যাত্রীদের সুবিধায় ২৬৬টি বিশেষ ট্রেন
পুজোর দিনগুলিতে বাড়তি যাত্রীচাপ সামাল দিতে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত মোট ২৬৬টি বিশেষ ট্রেন চালানো হয়। এর ফলে পুজো দেখতে বেরনো সাধারণ মানুষ, দর্শনার্থী এবং শহরতলির যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হয়। যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছনো আরও সহজ ও স্বচ্ছন্দ করতেই এই বিশেষ পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
শিয়ালদহ, দমদম, বিধাননগর রোড, সোনারপুর, বালিগঞ্জ, রানাঘাট এবং কল্যাণী স্টেশনে বিশেষভাবে বেশি যাত্রীসমাগম লক্ষ্য করা গিয়েছে। এর মধ্যে কল্যাণী স্টেশনে যাত্রীসংখ্যা প্রায় ১৪.০১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎসবের মরশুমে শহর ও শহরতলির মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে লোকাল ট্রেনের গুরুত্ব আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে।
ভিড় সামলাতে একযোগে কাজ রেলকর্মীদের
পুজোর সময় স্টেশনগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীদের সঠিক দিকনির্দেশ দেওয়া এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। শিয়ালদহ ডিভিশনের কমার্শিয়াল, অপারেটিং, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স, মেডিক্যাল-সহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মীরা সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করেন।
বিভিন্ন স্টেশনে রেলকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হয়েছিল। পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম এবং মেগাফোনের মাধ্যমে যাত্রীদের নিয়মিত নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ডিভিশনাল ওয়ার রুম থেকে পরিস্থিতির উপর ধারাবাহিক নজরদারি চালানো হয়, যাতে ভিড়ের গতিবিধি বুঝে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা যায়।
রেলকর্মীদের প্রশংসায় ডিআরএম
শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক যাত্রীর যাতায়াত সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে সমস্ত বিভাগের আধিকারিক, কর্মী এবং সামনের সারিতে কাজ করা রেলকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। বিশেষ ট্রেন চালানো এবং কার্যকর ভিড় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তাঁদের নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতা পুজোর দিনগুলিতে রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
একই সঙ্গে যাত্রীদের সহযোগিতা, ধৈর্য এবং নিয়ম মেনে চলার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই সাফল্য রেল পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন। প্রত্যেক যাত্রীর জন্য নিরাপদ, সুবিধাজনক ও নির্ভরযোগ্য রেল পরিষেবা নিশ্চিত করাই শিয়ালদহ ডিভিশনের অন্যতম লক্ষ্য।
দুর্গাপুজোর পাঁচ দিনে ২.৬৩ কোটিরও বেশি যাত্রীর যাতায়াতের এই পরিসংখ্যান শহর ও শহরতলির মানুষের কাছে লোকাল ট্রেনের অপরিহার্যতা আরও একবার তুলে ধরল। বিপুল ভিড়ের মধ্যেও পরিষেবা সচল রাখা এবং যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়াই ছিল রেলের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেখানেই তারা ফুল মার্কস পেয়েই পাশ করল।
https://www.youtube.com/watch?v=jNGYSN4KXPc
