ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ওসির কক্ষে বসে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান স্থানীয় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। রুমিন ফারহানা ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়াসহ নানা অভিযোগ আনেন।
তবে ওসি মঞ্জুর কাদের তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা এমপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের শেল্টার দেওয়ার অভিযোগ আনেন। এ সময় থানাপ্রাঙ্গণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রুমিন ফারহানা থানায় বসে ওসির উদ্দেশে বলেন, ‘কতবার রিকোয়েস্ট করেছি যে, নিরাপত্তা দেওয়া হোক। আইনে আছে যে, নির্বাচিত এমপি নিরাপত্তা চইলে লোকাল এরিয়াতে নিরাপত্তা দিতে হবে। গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগের সময় একজন এমপি গুলিবিদ্ধ এবং মারা যাওয়ার পর এই আইনটা হয়। উনি ফোনই ধরেন না এবং জানান, উনি নির্বাচিত এমপি, উনার নিরাপত্তা মানুষ দেবে।’ ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘উনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটা থেকে পয়সা নেওয়া, বালু, ইটের ভাটার পয়সা নেওয়া ইত্যাদি বিস্তর অভিযোগ। আপনারা জানেন যে, এলাকাটা দাঙ্গাপ্রবণ। দাঙ্গা হওয়ার পরে যখন সব শান্ত হয় তখন উনারা ধীরেসুস্থে ঘটনাস্থলে যান। এই বিষয়গুলো আজকে জানতে এসেছিলাম। উনি যে ব্যবহার আমার সঙ্গে করেছেন, সেটা একজন নির্বাচিত এমপির সঙ্গে আসলে করা যায় না।’
গত বৃহস্পতিবার রাতের বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, একজন নির্বাচিত এমপি নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের।
অন্যান্য উপজেলায় নিরাপত্তা দিয়েছে। উনাকে ফোন করলেও ফোন ধরেন না।
এদিকে সরাইল ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জানান, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এক-দেড়শ লোক নিয়ে থানার মধ্যে হৈচৈ করে অস্থিরতা তৈরি করেন। আমার অফিস কক্ষের মধ্যে কয়েকশ লোক ঢুকে এখানে একটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তিনি আরও বলেন, ‘উনি (এমপি) লোক সাজিয়ে নিয়ে এসেছেন। সেই লোক বলেন, আমাকে নাকি মামলার আসামি ছাড়ার ব্যাপারে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছেন। লোকটাকে আমি কোনোদিন দেখেছি বলে আমার মনে পড়ে না। আসামিরা আসে, অফিসাররা ধরে হাজতে পাঠায়। আবার কোর্টে চলে যায়। আমার সঙ্গে কোনো প্রয়োজনই হয় না। সেই লোক নাকি আমাকে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। এটা তো উনার শেখানো বিষয়।’
