আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।
বৈঠকে গঙ্গা চুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ জড়িত থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। বিদ্যমান চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কিংবা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়।
এ ছাড়া পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অংশ হিসেবে আগামী ২৫ অক্টোবর পাবনার সুজানগরে কমিটির পরিদর্শন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। এ পরিদর্শনের পর প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ে উদ্বোধনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে কমিটি।
বৈঠকের শুরুতে সংশোধনী সাপেক্ষে কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করা হয়। পরে জামালপুর জেলার ব্রহ্মপুত্র ও জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন প্রতিরোধ এবং জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীর বামতীর, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ ও আলাই নদীর তীর প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত দুটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
এ ছাড়া রাজশাহী ও নাটোর জেলার বারনই নদী পুনঃখনন, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্তকরণ প্রকল্প; কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদীসংলগ্ন পোল্ডারগুলোর পুনর্বাসন প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত কার্যক্রম এবং গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর কমিটি তা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবু, মাজহারুল ইসলাম, মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার, মো. ইজ্জত উল্লাহ, মো. অলি উল্লাহ এবং মো. মশিউর রহমান খান অংশ নেন।
এ সময় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার মহাপরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বোর্ডের প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
