ফ্র্যাটন পার্কে ৫৪ মিনিটে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরেছিল শেফিল্ড ইউনাইটেড। কিন্তু ৮৯ মিনিটের গোলে শেষ পর্যন্ত পোর্টসমাউথের মাঠে শেফিল্ড হেরেছে ৩-২ গোলে। একে তো এমন হার, তার ওপর ৪৪ মিনিটের পর থেকে শেফিল্ডকে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়। কারণ? লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশ জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী।
শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার তাই ক্ষোভ ঢেলেছেন ম্যাচের রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ডের ওপর। চ্যাম্পিয়নশিপে বুধবার রাতের এই ম্যাচে পোর্টসমাউথ উইঙ্গার রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনকে ৯ মিনিটের মধ্যে দুবার ফাউল করে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন হামজা। ৪৪ মিনিটে দ্বিতীয় ফাউলে দেখেন দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। রেফারির এই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন আছে।
চেলসি থেকে ধারে পোর্টসমাউথে যোগ দেওয়া রায়ান হামজাকে নাটমেগের চেষ্টা করতে গিয়ে হামজার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যান। শেফিল্ড কোচ ওয়াইল্ডার দাবি করেছেন, রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ড তখন হামজাকে বলেছিলেন যে তাকে লাল কার্ড দেখাবেন না; কিন্তু এর পরই সিদ্ধান্ত পাল্টে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান।
হারের পর ওয়াইল্ডার বলেন, ‘হামজা (মাঠে) কোথায় যাবে? সে কি মিস্টার ক্লেপল (রেন্টাগোস্ট নাটকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া চরিত্রের মতো) যে হুট করে মিলিয়ে যাবে? মাঠজুড়েই এমন ঘটনা ঘটছে। স্যাম ম্যাককালামকে তিন-চারবার বাধা দেওয়া হয়েছে।’
ওয়াইল্ডার ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে আরও বলেন, ‘হামজা আসলে কোথায় যাবে, সেটাই বুঝতে পারছি না। আমাকে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ হয়তো যা বলতে চাই, তা বলতে পারছি না। ম্যাচে শেষ মুহূর্তেও আমাদের দলের এক খেলোয়াড়কে বক্সে টেনে ধরা হয়, যেখানে পরিষ্কার দেখা গেছে, তার জার্সি প্রায় খুলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।’ রেফারিকে তাক করে ওয়াইল্ডার যোগ করেন, ‘কথা হচ্ছিল যে রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখাবেন না। দেখলাম প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা গিয়ে ভিড় করছে; সেটা গেমসম্যানশিপের অংশ হতেই পারে। তবে মনে হচ্ছে, আমাদের প্রতি কিছুটা অবিচার করা হয়েছে।’
ইংলিশ ফুটবলে দ্বিতীয় স্তরের প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে ১৫তম শেফিল্ড ইউনাইটেড। সমান ম্যাচ খেলে শীর্ষে থাকা সোয়ানসি সিটির সঙ্গে তারা ১১ পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে। শেফিল্ডের হয়ে এ মৌসুমে তিন ম্যাচ খেলেছেন হামজা। গোল পাননি।