Published on
:
2 min read
অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়াদিল্লি
উত্তেজনার আবহ একটু কমলেও মঙ্গলবারও যন্তর মন্তরের আশপাশে সশস্ত্র জওয়ানদের নজরদারি চলেছে পুরো মাত্রায়৷ তবু তারই মধ্যে যেন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে রাজধানী দিল্লির প্রাণকেন্দ্র কনৌট প্লেস৷ যানবাহন চলাচলও মোটামুটি স্বাভাবিক৷ খুলেছে মেট্রো স্টেশনও৷ যন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভ–ধর্না চলবে না— কেন্দ্রের এই ঘোষণা যেন নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করেছে এখানকার ব্যবসায়ীদের মনে৷ কনৌট প্লেস লাগোয়া জনপথ, বারাখাম্বা রোডেও স্বস্তির ছোঁয়া৷ খুশি পালিকা বাজারের ছোট ব্যবসায়ীরাও৷
কনৌট প্লেসের দোকান-মালিক দীপক বাজাজের দাবি, 'এত দিন পরে একটা খুশির খবর পেলাম৷ বড় কোনও বিক্ষোভ যন্তর মন্তরে থাকলেই পুলিশ বলত, দোকান বন্ধ রাখতে হবে৷ গত জুলাইয়েই (নিট-বিক্ষোভ) আমাদের নাভিশ্বাস উঠেছিল৷ এ ভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা লাটে উঠত।' পালিকা বাজারের ব্যবসায়ী অনুজ শর্মার কথায়, 'যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ–বিক্ষোভ দেখানোর মৌলিক অধিকারের পক্ষে সবাই সওয়াল করছে৷ আমাদেরও তো মৌলিক অধিকার আছে স্বাধীন ভাবে ব্যবসা করে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার৷ তা হলে কেন ভুগব?'
বস্তুত, সিইিসি-অপসারণ ইস্যুতে সিজেপি-র মিছিল বা তার আগে–পরে বিভিন্ন দলের বিক্ষোভ সমাবেশের জেরে যন্তর মন্তরের আশপাশ তল্লাটের ব্যবসা গত ক'দিনে লাটে উঠেছিল। এক দিনের বিক্ষোভেই অন্তত ২০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছিল 'চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'। খান মার্কেটের ব্যবসায়ী সংগঠনের তরফে এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। অবিলম্বে সব পুলিশি ব্যরিকেড সরিয়ে খান মার্কেটের আশপাশের সব এলাকাকে স্বাভাবিক করার আর্জিও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা৷
তবে এ দিন কনৌট প্লেস, পালিকা বাজারের 'ফিল গুড' পরিবেশ পুরো উধাও মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চাঁদনি চক, সদর বাজার এবং চাওরি বাজার এলাকায়৷ খাড়ি বাওলির ব্যবসায়ীরা তো এখন থেকেই প্রমাদ গুণতে শুরু করেছেন রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভের দিন ফিরতে পারে, এই ঘোষণা শোনার সঙ্গে সঙ্গে৷
খাড়ি বাওলিতে তিন দশক ধরে ড্রাই ফ্রুটসের দোকান চালানো মহম্মদ ইউসুফের দাবি, 'দেড় দশক আগে রামলীলা ময়দানে আন্না হাজারের আন্দোলনের সময়ে আমরা খুশিই ছিলাম৷ দিল্লি–সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে যাঁরা ওই আন্দোলনে যোগ দিতে এসেছিলেন, তাঁরা আমাদের দোকানগুলি থেকেই নিয়মিত কেনাকাটা করতেন৷ কিন্তু এখনকার আন্দোলন সেই ধরনের নয়৷ এখন আন্দোলন মানেই হিংসা, পুলিশের সঙ্গে সংঘাত৷ রামলীলা ময়দানে বড় কোনও আন্দোলন হলে আমাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে বাধ্য৷' চাঁদনি চকে শাড়ির দোকানের মালিক ধর্মেন্দ্র কুমারের কথায়, 'রামলীলা ময়দানে যে কোনও বিক্ষোভ সমাবেশে অনেক বেশি লোক জড়ো হতে পারবে৷ ফলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ঝামেলা হলে তার জেরে প্রভাবিত হতে পারে অনেক বড় এলাকা৷ আমরাও রেহাই পাব না৷'
এদিকে, যন্তর মন্তর থেকে রামলীলা, বুরারি এবং সিবিডি ময়দানে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের জায়গা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সামনে আসার পরেই সবার নজরে এসেছে রামলীলা ময়দানের দৈনন্দিন ভাড়ার বিষয়টি৷ যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখাতে গেলে এত দিন টাকা লাগত না৷ রামলীলা ময়দান ভাড়া নিতে হলে দিনে ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা খরচ গুনতে হবে৷ তার উপরে চলতি বছরে মাত্র তিন দিন খালি আছে রামলীলা৷ এই আবহে প্রতিবাদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ছোটখাটো সংগঠনগুলি কী করবে, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন৷