ভাইরাল দুবাই চকলেটের (দুবাই কুনাফা চকলেট নামে পরিচিত) উদ্যোক্তা স্থানীয় ব্র্যান্ড ফিক্স ডেজার্ট (FIX Dessert) ব্যবসায়িক প্রকল্প বিভাগে দুবাই-ইট অ্যাওয়ার্ড জিতেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) এ ঘোষণা দেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং দুবাইয়ের নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম।
দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সারাহ হামুদা ও ইয়েজেন আলানির প্রশংসা করেন। তারা বাড়িভিত্তিক (হোমমেড) একটি ব্যবসাকে আন্তর্জাতিক সাফল্যে পরিণত করেছেন এবং এমন একটি চকলেটের প্রবণতা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন, যা বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে শেখ হামদান দুবাই-ধাঁচের চকলেটের অসাধারণ প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরেন। এক বছরে এই চকলেটের বিক্রি বেড়েছে ১ হাজার ২৩৪ শতাংশ।
এই প্রবণতা থেকে অনুপ্রাণিত পণ্য এখন বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে এবং ১০০টিরও বেশি বিমানবন্দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, দুবাইয়ে জন্ম নেয়া একটি মিষ্টিজাত পণ্যের ব্র্যান্ড কীভাবে আন্তর্জাতিক পণ্যের একটি শ্রেণিকে নতুন রূপ দিতে সহায়তা করেছে।
শেখ হামদান লেখেন, “আমরা ঘোষণা করছি, ব্যবসায়িক বিভাগে প্রকল্পের জন্য দুবাই-ইট অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছে ফিক্স ডেজার্ট, যে প্রতিষ্ঠান বিশ্ববাসীর কাছে ‘দুবাই চকলেট’ পরিচিত করেছে।”
তিনি সারাহ হামুদা ও ইয়েজেন আলানির কৃতিত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা একটি ছোট উদ্যোগকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্যবসায় পরিণত করেছেন।
তিনি আরও লেখেন, ‘এটাই দুবাই-ইটের চেতনা—বাড়িভিত্তিক একটি সাধারণ ব্যবসাকে বৈশ্বিক সাফল্যে রূপান্তর করা। ফিক্স ডেজার্টের দলকে অভিনন্দন।’
বাড়ির রান্নাঘর থেকে বিশ্বজুড়ে চকলেটের জনপ্রিয়তা
পেস্তা ক্রিম ও মচমচে কুনাফা দিয়ে ভরা চকলেট বার (Dubai Kunafa Chocolate) তৈরি করে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পায় ফিক্স ডেজার্ট। পণ্যটিতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিচিত স্বাদের সমন্বয় করা হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে।
সারাহ হামুদা ও ইয়েজেন আলানির প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাটির যাত্রা শুরু হয়েছিল দুবাইয়ের একটি বাড়ির রান্নাঘর থেকে। পরে এটি বহুল পরিচিত একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়।
তাদের বিশেষ চকলেট বারের নাম ‘ক্যান্ট গেট কুনাফেহ অব ইট’ (Can't Get Knafeh of It)। এই চকলেট বার বিশ্বজুড়ে একই ধরনের পণ্য তৈরির প্রবণতা ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে। বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা ও চকলেট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো করে দুবাই-ধাঁচের চকলেট তৈরি শুরু করে।
এরপর দুবাইয়ের বাইরেও নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে ফিক্স। সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর এবং লন্ডনের হ্যারডসেও তাদের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে।
শেখ হামদানের নির্দেশনায় ২০২৬ সালের জুনে ডুবাই-ইট অ্যাওয়ার্ড চালু করা হয়। দ্রুততা, উৎকর্ষ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে উচ্চাভিলাষী ধারণাকে পরিমাপযোগ্য সাফল্যে রূপ দেয়া ব্যক্তি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও প্রকল্পকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য এই পুরস্কার চালু করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের চালু করা বৃহত্তর ‘ডুবাই-ইট’ উদ্যোগের অংশ এই পুরস্কার। আমিরাতের ব্যতিক্রমী ফলাফল অর্জনের পদ্ধতিকে উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোকে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করা হয়, যাতে সাহসী ধারণাকে বাস্তব সাফল্যে রূপ দেয়া যায় এবং এর মাধ্যমে অর্থনীতি ও সমাজে বৃহত্তর প্রভাব তৈরি হয়।
