চিঠিতে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের সংশোধিত শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩৮(২) ও ১৩৮(৪) ধারা উল্লেখ করে বলা হয়, নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের জন্য একজন নিরপেক্ষ সদস্য, একজন মালিক প্রতিনিধি ও একজন শ্রমিক প্রতিনিধিকে সরকার নিয়োগ দেবে। এ নিয়োগের জন্য প্রত্যেক সদস্যের বিপরীতে তিনজন করে প্রার্থীর নাম প্রস্তাব চেয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি পর্যালোচনা ও পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিদের নাম প্রস্তাব করতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন শ্রম অধিদপ্তর।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের মহাসচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে মালিকপক্ষের তিনজন প্রতিনিধির নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের সংশোধিত শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩৮(২) ও ১৩৮(৪) ধারা উল্লেখ করে বলা হয়, নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের জন্য একজন নিরপেক্ষ সদস্য, একজন মালিক প্রতিনিধি ও একজন শ্রমিক প্রতিনিধিকে সরকার নিয়োগ দেবে। এ নিয়োগের জন্য প্রত্যেক সদস্যের বিপরীতে তিনজন করে প্রার্থীর নাম প্রস্তাব চেয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, শ্রমিকদের মজুরির বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নাম প্রস্তাব করে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ১৪ অক্টোবরের একটি পত্রের সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের সর্বশেষ নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় ১২ হাজার ৫০০ টাকা। একই বছরের ডিসেম্বরে এ মজুরি কার্যকর হয়। ২০০৬ সালে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ছিল ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা। পরে ২০১০ সালে তা ৩ হাজার টাকা, ২০১৩ সালে ৫ হাজার ৩০০ টাকা, ২০১৮ সালে ৮ হাজার টাকা এবং ২০২৩ সালে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
সম্প্রতি শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মজুরি বাড়ানোর দাবি জানানো হচ্ছে। কোনো কোনো শ্রমিক সংগঠন মাসিক নিম্নতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিও জানিয়েছে।
ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি) ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ এবং ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকরের দাবি জানিয়েছিল। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, সংশোধিত শ্রম আইনে পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন বছর অন্তর মজুরি পর্যালোচনার বিধান করা হয়েছে।
