মদিনার মসজিদে নববিতে অবস্থিত অত্যন্ত পবিত্র স্থানের নাম রিয়াজুল জান্নাত। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের কাছে এটি পৃথিবীর অন্যতম পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। আরবি ভাষায় রিয়াজুল জান্নাত শব্দের অর্থ জান্নাতের বাগান। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারক এবং তার মিম্বরের মাঝখানের অংশকেই মূলত রিয়াজুল জান্নাত বলা হয়।
হাদিস শরিফে রিয়াজুল জান্নাতকে জান্নাতের একটি বাগান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ মুসলিম এখানে নামাজ আদায় করে, বসে কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে দোয়া করেন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার ঘর এবং আমার মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান এবং আমার মিম্বরটি আমার কাউসারের ওপর অবস্থিত। -সহিহ বোখারি
রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার বিশেষ নৈকট্য লাভ করা যায় এবং আত্মশুদ্ধি লাভ করা হয়। রিয়াজুল জান্নাতে গিয়ে বেশি বেশি জিকির ও দোয়ায় নিমগ্ন থাকা অত্যন্ত উত্তম।
রিয়াজুল জান্নাত পৃথিবীতে অবস্থিত জান্নাতের একটি অংশ। নবী কারিম (সা.) বলেছেন, আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের বাগানগুলোর একটি বাগান এবং আমার মিম্বরটি আমার কাউসারের ওপর অবস্থিত।
রিয়াজুল জান্নাতে মোট আটটি ঐতিহাসিক স্তম্ভ রয়েছে। এই স্তম্ভগুলো ঠিক সেই স্থানে নির্মিত, যেখানে মসজিদে নববির প্রথম ছাদ ধরে রাখার জন্য খেজুরগাছের কাণ্ড স্থাপন করা হয়েছিল।
হিজরতের পরে প্রথম দিকে নবী কারিম (সা.) মদিনায় খোলা আকাশের নিচে একটি গাছের নিচে নামাজ আদায় করতেন। পরবর্তীতে খেজুরপাতা ও কাঠ দিয়ে একটি সাধারণ কাঠামো তৈরি করা হয়, যেখানে তিনি দৈনিক নামাজ শেষে ইসলামের দাওয়াত দিতেন।
কালের পরিক্রমায় এই স্থানটি মসজিদে নববি নামে পরিচিতি পায়। বিভিন্ন শাসক ও খলিফাদের আমলে একাধিকবার সংস্কার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই মসজিদের আয়তন বৃদ্ধি পায়। তৎকালীন সেই খেজুরপাতার সাধারণ স্থানটি আজকের সুবিশাল মসজিদে নববি।
সবুজ গালিচা ও পুষ্পশোভিত সাজসজ্জার জন্যও রিয়াজুল জান্নাত সুপরিচিত। মনে করা হয় যে এর গালিচার সবুজ রঙ জান্নাতের প্রতীক এবং ফুলগুলো জান্নাতের বাগানের সৌন্দর্য প্রকাশ করছে।
জিয়াজুল জান্নাতে ইবাদত ও নামাজ আদায়ের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলতে হয়। এতে করে ইবাদত করতে সুবিধা হয়। যেমন- সপ্তাহের সাধারণ দিনগুলোতে ভিড় কম থাকায় জিয়ারত করতে সুবিধা হয়।
জিয়াজুল জান্নাতে প্রবেশের তিনটি প্রধান গেট আছে। সেগুলো হলো বাব-ই জিবরিল, বাব-ই রহমত এবং বাব-উল বিদা। পুরুষ ও নারীদের নামাজ আদায়ের নির্ধারিত আলাদা আলাদা সময় আছে। জিয়াজুল জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে জুতো খুলে অজু করে নেওয়া আবশ্যক। ভেতরে প্রবেশের পর কাউকে বিরক্ত না করে নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকা উচিত।
