নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মো: সাগর হোসেন (৩২) নামের এক পোশাক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণের পর অন্তত ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অপহৃতের পরিবারের কাছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে রোববার বিকেলে ইসদাইরের অক্টো অফিস এলাকার নিঝুম সোসাইটির গলি থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
অপহৃত সাগর ফতুল্লার দেওভোগ নূর মসজিদ এলাকার শরিফ হোসেনের ছেলে। তিনি পোশাক ব্যবসায়ী।
সাগর বলেন, রোববার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এক বন্ধুর সাথে নিঝুম সোসাইটির গলি দিয়ে যাওয়ার সময় ধারাল অস্ত্রের মুখে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সাথে থাকা বন্ধুকেও অস্ত্রের মুখে হুমকি দেয়া হয়। পরে তাকে বিসিকের একটি অফিসের ভেতর ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। রাতেই নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন বলেও জানান।
অভিযোগে বিসিকের শাসনগাও এলাকার অরুন হাওলাদারের ছেলে মো: রাইসান রোমান (৩২), মো: আতিক ও মাসদাইরের আব্দুস সালামের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো পাঁচ থেকে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাগরকে অভিযুক্তরা একটি প্রাইভেটকারে তুলে বিসিকের শাসনগাও এলাকার ‘এম্প্যায়ার কটন’ নামে একটি অফিসের ভেতর আটকে রাখে। পরে সেখানে তাকে এলোপাথারি মারধর করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে তারা সাগরের মোবাইলফোন ছিনিয়ে নিয়ে তার দুবাই প্রবাসী ভগ্নিপতি হিরু সিকদারকে হোয়াটস অ্যাপে কল করে মুক্তিপণ হিসেবে সাড়ে তিন কোটি টাকা দাবি করে। অন্যদিকে সাগরের বন্ধু শিমুল তাকে উদ্ধারের জন্য থানা-পুলিশসহ স্থানীয় লোকজনের সাথে যোগাযোগ ও আইনি পদক্ষেপের জন্য তৎপরতা শুরু করেন। বন্ধুর এই তৎপরতার টের পেয়ে অভিযুক্তরা রাত আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়। ছাড়ার আগে তাদের দাবি করা টাকা না দিলে এবং এ বিষয়ে পুলিশ-প্রশাসনের কাউকে জানালে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে বলেও হুমকি দেয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগী সাগর।
অভিযুক্ত রাইসার রোমানের হোয়াটস অ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনি একটু কষ্ট করে অফিসে আসেন। সামনা-সামনি কথা বলি। অনেক সময় অনেক কিছু ভুল হতে পারে আমার। সামনা-সামনি কথা বলব।’
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়টি ওসি স্যার দেখছেন। তিনি পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেবেন।’
