দুর্গাপূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে পরিবারের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরতে যায় শিশুরাও। তবে উৎসবের ভিড়, দীর্ঘ সময় হাঁটাহাঁটি এবং অপরিচিত পরিবেশে অসতর্কতার কারণে শিশুরা হারিয়ে যেতে পারে কিংবা দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। তাই পূজার আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি শিশুর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। লিখেছেন মুশফিরাত
ভিড়ের সময় শিশুকে হাত ধরে রাখুন
পূজার মণ্ডপে প্রবেশের সময় এবং বের হওয়ার পথে সাধারণত বেশি ভিড় থাকে। এ সময় শিশুকে সব সময় হাত ধরে সঙ্গে রাখা জরুরি। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে হাত শক্ত করে ধরে রাখুন এবং এমনভাবে চলুন, যাতে তারা সহজেই অভিভাবককে দেখতে পায়। শিশুকে সামনে বা পাশে রাখুন, ভিড়ের মধ্যে পেছনে একা হাঁটতে দেবেন না।
শিশুকে কোলে নেওয়ার প্রয়োজন হলে নিজের ভারসাম্য বজায় রাখুন এবং চারপাশের পরিস্থিতি খেয়াল করুন। বড় ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে শিশুকে নিয়ে বিপরীত দিকে হুড়োহুড়ি না করে নিরাপদ ও তুলনামূলক ফাঁকা জায়গায় সরে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
শিশুকে পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য শেখান
শিশুকে আগে থেকেই তাকে নিজের নাম এবং মা-বাবার নাম শেখানো ভালো। বয়স অনুযায়ী মা-বাবার ফোন নম্বরও মুখস্থ করানোর চেষ্টা করুন। ছোট শিশুদের পোশাকের পকেটে অভিভাবকের নাম ও ফোন নম্বর লেখা একটি পরিচয়পত্র রাখা যেতে পারে। চাইলে পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যসহ একটি ছোট কার্ড শিশুর ব্যাগেও রাখা যায়।
তবে এসব তথ্য এমনভাবে রাখবেন, যাতে অপরিচিত কেউ সহজে শিশুর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে না পারে। শিশুকে বুঝিয়ে বলুন, মা-বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে যেন কোনো নির্দিষ্ট নিরাপদ স্থানে দাঁড়িয়ে সাহায্য চায়। বয়স উপযোগী ভাষায় বিষয়টি আগে থেকেই বুঝিয়ে দিলে জরুরি পরিস্থিতিতে শিশুর ভয় কিছুটা কমতে পারে।
হারিয়ে গেলে কী করতে হবে, তা শেখান
শিশুর সঙ্গে সহজভাবে আলোচনা করুন ভিড়ের মধ্যে মা-বাবাকে দেখতে না পেলে কী করবে। তাকে বোঝান, আতঙ্কিত হয়ে এদিক-ওদিক ছুটে বেড়াবে না। বরং নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে কাছাকাছি থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী কিংবা পুলিশ সদস্যের সাহায্য চাইবে।
শিশুকে শেখানো যেতে পারে, অপরিচিত কারও সঙ্গে নির্জন জায়গায় যাবে না এবং কেউ মা-বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেই তার সঙ্গে চলে যাবে না। একই সঙ্গে শিশুকে বোঝাতে হবে, প্রয়োজনে সাহায্য চাওয়া ভুল নয়। মণ্ডপে প্রবেশের সময় কোথায় নিরাপত্তাকর্মী বা তথ্যকেন্দ্র রয়েছে, তা অভিভাবকরা আগে থেকেই দেখে নিতে পারেন।
পোশাকে রাখুন সহজে চেনার ব্যবস্থা
ভিড়ের মধ্যে শিশুকে দ্রুত খুঁজে পেতে তার পোশাকের রং ও ধরন খেয়াল রাখা প্রয়োজন। উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরালে দূর থেকে শিশুকে শনাক্ত করতে সুবিধা হতে পারে। তবে পোশাক যেন আরামদায়ক হয় এবং চলাফেরায় কোনো বাধা সৃষ্টি না করে।
পূজায় শিশুদের হাতে বা গলায় অতিরিক্ত ভারী গহনা পরানো এড়িয়ে চলুন। পোশাকের লম্বা অংশ, ঝুলন্ত ফিতা কিংবা এমন অনুষঙ্গ এড়িয়ে চলুন, যা ভিড়ের মধ্যে কোথাও আটকে যেতে পারে। যায়।
সড়ক ও চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন
পূজার সময় মণ্ডপের আশপাশের সড়কেও মানুষের ভিড় বাড়ে। যানবাহন, মোটরসাইকেল, রিকশা কিংবা ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চলাচলের মধ্যে শিশুদের নিয়ে চলাফেরা করার সময় বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। রাস্তা পার হওয়ার সময় শিশুর হাত ধরে নির্ধারিত পারাপারের স্থান ব্যবহার করুন। কখনোই শিশুকে একা রাস্তা পার হতে দেবেন না।
মণ্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, সিঁড়ি এবং অস্থায়ী স্থাপনার আশপাশে শিশুকে দৌড়াতে দেবেন না। কোথাও ভিড় জমে গেলে শিশুকে নিয়ে ধাক্কাধাক্কি করে সামনে এগোনোর চেষ্টা করবেন না। বরং নিরাপদ ও ফাঁকা পথ বেছে নিন।
শিশুকে চোখের আড়াল করবেন না
অনেক সময় ছবি তোলা, কেনাকাটা কিংবা পরিচিত মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় অভিভাবকদের মনোযোগ অন্যদিকে চলে যায়। এ সময় শিশুর দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। একাধিক সদস্য একসঙ্গে ঘুরতে গেলে আগে থেকেই ঠিক করে নিন, কে শিশুর দেখাশোনা করবেন। একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি থাকলে অসাবধানতার ঝুঁকি কমে।
শিশু একটু বড় হলে তাকে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে থাকার নিয়ম শেখান। তবে শুধু নিয়ম শেখানোর ওপর নির্ভর না করে অভিভাবকদেরও সারাক্ষণ সতর্ক থাকতে হবে। মণ্ডপের ভিড়ে শিশুকে কোনো দোকান, খেলনার স্টল বা খাবারের জায়গায় একা রেখে অন্য কাজে চলে যাওয়া উচিত নয়।
জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকুন
মণ্ডপে যাওয়ার আগে কাছাকাছি কোথায় পুলিশ, নিরাপত্তাকর্মী বা প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে, তা জেনে রাখা ভালো। শিশু হারিয়ে গেলে দ্রুত মণ্ডপের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এবং নিরাপত্তাকর্মীদের জানান। প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নিন।
/এসএল
