নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়াপদা কলোনি এলাকায় পূর্ববিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে সাহেব আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ওয়াপদা কলোনি এলাকার বালুর মাঠ ও ইত্তেহাদ টাওয়ারের সামনে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে ওয়াপদার বালুর মাঠে আড্ডা দিচ্ছিলেন সাহেব আলীর ভাই রবিউল ও তার সহযোগী হাফিজ। এ সময় রনি ও আসলাম নামের দুই ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালান। একপর্যায়ে রনির ছোড়া গুলিতে রবিউল হাতে আঘাত পান এবং হাফিজকে বেধড়ক মারধর করা হয়। খবর পেয়ে রবিউলের ভাই সাহেব আলী ও তার ছেলে সজিব খালি গায়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর সাহেব আলী প্রতিপক্ষ রনিকে প্রতিহত করতে ইট হাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই রনি তার মাথায় সরাসরি গুলি করেন। গুলিতে লুটিয়ে পড়ে সাহেব আলী পাশের একটি খালে তলিয়ে যান।
হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ও হাফিজের শাশুড়ি রাজিয়া বেগম জানান, খালে পড়ে যাওয়ার পরও ক্ষান্ত হননি হামলাকারীরা। রনি পুনরায় অস্ত্র লোড করে তাকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয়বার গুলি চালান। ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে স্থানীয়দের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সুযোগ বুঝে রনি ও আসলাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সাহেব আলীকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত সাহেব আলীর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সাতটি, মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত দুটি, নারী ও শিশু নির্যাতনের একটি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও নাশকতার তিনটি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পাঁচটি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের ছদ্মবেশে ডাকাতির দুটিসহ মোট ২০টি মামলা রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
