সুদানে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় ১৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। চিকিৎসাকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও শিশুও রয়েছে।
সোমবার রাজধানী খার্তুমে ড্রোন হামলায় তিন শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ নামের একটি সংগঠন। সুদানের গৃহযুদ্ধে বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে সংগঠনটি। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে হামলায় ১৬০ জনের বেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এসব হামলার জন্য আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ও সরকারি বাহিনী উভয় পক্ষকেই দায়ী করা হচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে তারা সংঘাতে জড়িত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ড্রোনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিও বাড়ছে।
সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাটি ঘটে রোববার সন্ধ্যায়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় পশ্চিম কোরদোফান রাজ্যের আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত আল-দিবাব শহরে একটি বাজারের কাছে ড্রোন হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসাকর্মীদের মতে, বাজারের দিন শেষে বাড়ি ফেরার জন্য যানবাহনের অপেক্ষায় পরিবহনকেন্দ্রে জড়ো হয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। সেখানে ড্রোন হামলায় ৮০ জন নিহত হন।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় আহত ৪৭ জনকে কাছের আল-মুজলাদ শহরে নেওয়া হয়। পরে তাদের মধ্যে ৩০ জন মারা যান বলে জানিয়েছেন এক চিকিৎসা সূত্র।
আরএসএফের স্বঘোষিত প্রশাসন ‘তাসিস’ এবং ইমার্জেন্সি লইয়ার্স এ হামলার জন্য সুদানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে।
পূর্ব সুদানে গাদারেফ রাজ্যের আতবারা ও সেটিত বাঁধ লক্ষ্য করে আরএসএফের কয়েকটি ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র। রোববার এ তথ্য জানানো হয়। বাঁধ দুটি খার্তুমের প্রায় ৪২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি আরএসএফ।
সোমবার ভোরে দক্ষিণ দারফুর রাজ্যের রাজধানী ও আরএসএফের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নিয়ালায় আরেকটি ড্রোন হামলা হয়। চিকিৎসা ও আরএসএফ সূত্র জানিয়েছে, এতে সাত আরএসএফ কর্মকর্তাসহ ১৭ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার ইথিওপিয়া সীমান্তবর্তী সুদানের ব্লু নাইল প্রদেশে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি সমাবেশে আরএসএফের ড্রোন হামলায় ৪১ জন নিহত হন বলে জানিয়েছে ইমার্জেন্সি লইয়ার্স। সংগঠনটি এ ঘটনাকে মানবিক বিপর্যয় আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে।
সুদানে বর্তমান যুদ্ধ শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিলে। দেশটির সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও আরএসএফপ্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালো যিনি হেমেদতি নামেও পরিচিত; আধাসামরিক বাহিনীকে সেনাবাহিনীতে একীভূত করার পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এর পরই সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
গত জুনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় হেমেদতিকে। চতুর্থ বছরে গড়ানো এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি। তবে সহায়তা সংস্থাগুলোর ধারণা, প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। সহায়তা সংস্থাগুলো এ পরিস্থিতিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করছে।
সূত্র : আল জাজিরা
