আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই রাজধানীর সংশোধিত ছয়টি রুটে একটি করে কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে অন্তত দুটি রুটে এ ব্যবস্থা চালু করতে মরিয়া কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে এবং যানজট কমাতে ছয় মাসের মধ্যে বাস রুট রেশনালাইজেশন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
গত বুধবার তেজগাঁওয়ে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) কার্যালয়ে ঢাকা মহানগরীতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম বিষয়ে হওয়া সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সভায় ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী অন্তত দুটি রুটে একক কোম্পানির অধীনে বাসসেবা চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে এ ব্যবস্থা চালু করতে আমরা জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি রুটে বাস পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোকে একীভূত করে একটি কোম্পানি গঠন করা হবে। সেই সঙ্গে কয়েকটি রুট পুনর্বিন্যাসও করা হবে।
একক কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার জন্য পরিকল্পিত রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে—শিববাড়ী-সদরঘাট রুট (বিকাশ ও ভিআইপি পরিবহনের বাস চলছে), গাবতলী থেকে গুলশান-১ হয়ে ডেমরা রুট (আলিফ, বৈশাখী ও রইচ পরিবহনের বাস চলছে), দুয়ারীপাড়া থেকে আজিমপুর হয়ে সদরঘাট রুট (দিশারী, তানজিল, মেট্রো লিংক ও ট্রান্স সিলভা পরিবহনের বাস চলছে), রামপুরা হয়ে ঘাটারচর থেকে ডেমরা রুট এবং কাকরাইল হয়ে ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুট (রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ, মিডলাইন পরিবহন, মালঞ্চ পরিবহন ও রজনীগন্ধা পরিবহনের বাস চলছে), মিরপুর-১২ থেকে বাবুবাজার হয়ে মাওয়া রুট (স্বাধীন পরিবহন, বিহঙ্গ, মিরপুর সুপার লিংক ও শিকড় পরিবহনের বাস চলছে)।
এছাড়া নতুন তিনটি রুটে একটি কোম্পানির অধীনে বৃত্তাকার বাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘উত্তরা চাকা’ কোম্পানি মেট্রো সেন্ট্রাল স্টেশন হয়ে কদম চত্বর থেকে পঞ্চবটী রুটে এবং ‘ঢাকা চাকা’ পান্থপথ হয়ে ফার্মগেট থেকে পলাশী এবং কলাবাগান হয়ে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আজিমপুর রুটে বাস পরিচালনায় আগ্রহ দেখিয়েছে।
বাস মালিকরা জানিয়েছেন, কোম্পানির শেয়ার বণ্টন নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। কারণ নতুন গঠিত কোম্পানিতে যার যত সংখ্যক বাসই থাকুক না কেন, মালিকরা একই সংখ্যক পরিচালক পদ পাবেন।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক কাজী যুবায়ের মাসুদ বলেন, বাস রুটগুলোতে একাধিক অপারেটরের মধ্যে বাস পরিচালিত হচ্ছে। এতে বাসের সংখ্যা ভিন্ন হওয়ায় মালিকদের শেয়ারও ভিন্ন। ফলে এক কোম্পানিতে বেশি বাসের মালিকরা কম বাসের মালিকদের সমান অংশীদার হতে চাইবে না। এটি একটি বড় সমস্যা, যার সমাধান হওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম বলেন, আগামী ১৭ অক্টোবর একটি সভা রয়েছে। সেখানে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে।
সভায় আরো বক্তব্য দেন—বিএনপির শ্রমিক দলের নেতা ও সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতা সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর সচিবালয়ে ঢাকা মহানগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক হয়। এতে রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনার মাধ্যমে যানজট কমাতে ছয় মাসের মধ্যে বাস রুট রেশনালাইজেশন বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন তিনি। এ পদ্ধতিতে একটি রুটে একাধিক নয়; মাত্র একটি কোম্পানির ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চলবে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী দুই মাসে বাস স্টপেজ নির্ধারণ, লক্কড়ঝক্কড় বাস মেরামত এবং চালকদের মাসিক বেতনের ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে। এ সময়ে কয়েকটি রুট চালু করা হবে। এরই মধ্যে ঢাকাকে ৩২টি রুটে বিভক্ত করে সবকটিতে ছয় মাসের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চালু করা হবে। এ পদ্ধতিতে কাউন্টারভিত্তিক যাত্রীসেবা, ই-টিকেটিং ও জিপিএস ট্র্যাকিং থাকবে।
সভায় জানানো হয়, ঢাকায় অনুমোদিত ৪১৮টি বাস রুটের মধ্যে বর্তমানে ৯৮টি সচল। এসব রুটে ৬৬টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাস চলছে। এগুলোকে ঢেলে সাজিয়ে ৩২টি রুট করতে চায় ঢাকা পরিবহন কর্তৃপক্ষ।
