মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ে আয়োজিত ‘ককরোচ’ বিক্ষোভে যোগ দিয়ে আটক হয়েছিলেন ইমরান খান। সেসময়েই সিজেপি বিক্ষোভে ইমরানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে ‘মার্কিন নাগরিক’ বলে দাবি করেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ কিরিট সোমাইয়া। এরপরই বড় শাস্তির খাড়া নেমে এসেছে বলিউড অভিনেতার উপর। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ইমরানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিস জারি করে মুম্বই পুলিশ। তখন থেকেই অনুরাগীমহলে কৌতূহল, ইমরান খান কি আদতেই ভারতের নাগরিক নন? এহেন বিতর্কের আবহেই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে অভিনেতার পুরনো এক সাক্ষাৎকার। যেখানে নিজের নাগরিকত্ব নিয়ে মুখ খুলেছিলেন ইমরান।
“আমি বিশ্বাস করি, কেবল ভোটের মাধ্যমেই আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদদের ক্ষমতাচ্যুত করতে পারি এবং দেশের তরুণ নেতাদের সুযোগ করে দিতে পারি, যারা পরিবর্তন আনতে চান। ২৬/১১ হামলার পর অনেকে…”
সময়টা ২০০৯ সাল। বলিউডে সবে পা রেখেছেন ইমরান। তার ঠিক আগের বছরই মুক্তি পেয়েছে ‘জানে তু ইয়া জানে না’। সেসময়ে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানান, “খুব কম মানুষই জানেন যে, আমি একজন মার্কিন নাগরিক। এমনকী বছর চারেক আগে আমি বারাক ওবামাকে ভোটও দিয়েছিলাম।” ওই সাক্ষাৎকারে ইমরান নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ, নাগরিক হিসেবে মৌলিক অধিকার নিয়েও মুখ খুলেছিলেন। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, কেবল ভোটের মাধ্যমেই আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদদের ক্ষমতাচ্যুত করতে পারি এবং দেশের তরুণ নেতাদের সুযোগ করে দিতে পারি, যারা পরিবর্তন আনতে চান। ২৬/১১ হামলার পর অনেকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে আমাদের কর দেওয়া বন্ধ করা উচিত, কিন্তু তাতে কোনও লাভ হবে না।” এর কয়েক বছর পর, ২০১১ সালে ইমরান এও জানান যে, তিনি একাধিকবার ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
ভারতে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ না করতে পারার আক্ষেপও শোনা গিয়েছিল তাঁর কণ্ঠে। ইমরান বলেছিলেন, “বিষয়টা হাস্যকর! তবে ব্যক্তিগতভাবে আরও বেশি হতাশাজনক।…”
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে ইমরান খান বলেন, “আমি ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করছি। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি, শীঘ্রই পেয়ে যাব, কারণ বড় কিছু ঘটতে চলেছে।” এও জানান যে, “আমি মনে করি, আমার দেশের সেবা করা আমার দায়িত্ব। আমি এখানে ভোট দিতে পারি না কারণ আমি ভারতের নাগরিক নই, তবে আমি নির্বাচনের সময় ভোট দেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সকলকে সচেতন করি, কারণ আমি নিজেকে এই দেশেরই অংশ বলে মনে করি।” ভারতে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ না করতে পারার আক্ষেপও শোনা গিয়েছিল তাঁর কণ্ঠে। ইমরান বলেছিলেন, “বিষয়টা হাস্যকর! তবে ব্যক্তিগতভাবে আরও বেশি হতাশাজনক। কারণ মার্কিন নাগরিক হওয়ার সুবাদে আমি ভারতে ভোট দিতে পারি না। তাই অন্য কোনও উপায়ে সেই ঘাটতি পূরণ করি। আমি যদি অন্তত ২০ জন মানুষকেও ভোট দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পারি, তবে আমারও মনে হয় যে আমিও আমার দেশের জন্য কিছুটা অন্তত অবদান রাখতে পেরেছি।”
ইমরান খানের জন্ম মার্কিন মুলুকে। তার মা নুজহাত খান ও বাবা অনিল পাল তখন সেখানে পড়াশোনা করছিলেন। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর, প্রায় ৩ বছর বয়সে ইমরান তার মায়ের সঙ্গে মুম্বইতে চলে আসেন।
প্রসঙ্গত, ইমরান খানের জন্ম মার্কিন মুলুকে। তার মা নুজহাত খান ও বাবা অনিল পাল তখন সেখানে পড়াশোনা করছিলেন। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর, প্রায় ৩ বছর বয়সে ইমরান তার মায়ের সঙ্গে মুম্বইতে চলে আসেন। এদিকে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ইমরান খানের কাজের সংখ্যা গুটিকয়েক। আমির খানের মতো বড়মাপের সুপারস্টার মামা হলেও বলিউডের পিচে পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে পারেননি ‘দিল্লি বেলি’ অভিনেতা। থাকতেন প্রচারের অন্তরালেই। তবে সম্প্রতি ‘ককরোচ’ বিক্ষোভে যোগ দিয়ে আটক হওয়ার পর আবারও লাইমলাইটে অভিনেতা। বিগত কয়েক দিন ধরেই ইমরানকে নিয়ে চর্চার অন্ত নেই। সিজেপি সমর্থকদের কথায়, ‘বলিউডের প্রথমসারির তারকদের মুখে যখন কুলুপ, তখন বিক্ষোভে যোগ দিয়ে বুকের পাটা দেখানোর সাহস রেখেছেন ইমরান খান।’
