চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসক-নার্স, বৈধ লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই ক্লিনিক পরিচালনার অভিযোগে লোকমান হোসেন হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক লুৎফর হোসেনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিজারিয়ান অপারেশন করার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আলমডাঙ্গা পৌর শহরে ক্লিনিকটিতে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে এ দণ্ড দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আলমডাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মন্ডল।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ক্লিনিকটিতে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স ছিলেন না। এ ছাড়া পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। ক্লিনিক পরিচালনার জন্য বৈধ সরকারি লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্রও ছিল না।
এর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মালিক লুৎফর হোসেন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গতকাল শনিবার কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সারদার চর গ্রামের রবি হোসেনের স্ত্রী সনিয়া খাতুনের (২৮) সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়।
অপারেশনের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে তাঁকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও চিকিৎসায় ত্রুটির অভিযোগের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ্বর মন্ডল জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বৈধ লাইসেন্স ও পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ক্লিনিকটির সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগের নিষেধাজ্ঞাও বহাল রাখা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য ও মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে পরিচালিত অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান এবং আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
The post আলমডাঙ্গায় অবৈধ ক্লিনিকে সিজার, মালিকের এক মাসের কারাদণ্ড appeared first on ভোরের চেতনা.
