প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের আগে টোকিওতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে ঢাকায় ফিরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একান্ত নিজস্ব বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতি মন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপে তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলন সামনে রেখে নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর প্রস্তুত করা জাতীয় অবস্থানপত্র প্রকাশ এবং জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন। এ সফরে টোকিওতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী থাকছেন না। তাকে ঢাকায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে রাখার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি প্রতি মন্ত্রী।
শামা ওবায়েদ আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারেও এ সফর ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রত্যাশা তার।
আসন্ন কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, সীমিত বাজেট নিয়েও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও অভিযোজন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সম্মেলনে জ্বালানি রূপান্তরের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের বৈশ্বিক সম্ভাবনাও তুলে ধরতে চায় বাংলাদেশ।
জলবায়ু সম্মেলনে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং অভিযোজন ও প্রশমনের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন প্রতি মন্ত্রী। তার মতে, উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। এ সহায়তা অনুদান হিসেবে দেওয়া প্রয়োজন, যাতে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ঋণের বোঝা আরও না বাড়ে।
শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অভিযোজন ও প্রশমনে সমান গুরুত্ব দেওয়া দরকার। উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। এই সহায়তা মূলত অনুদান হিসেবে আসতে হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ঋণের বোঝা আরও না বাড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতি মোকাবিলায় একটি ফান্ড দরকার।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের সমন্বিত অবস্থান তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈশ্বিক আলোচনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হলে দেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর তৈরি করতে হবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, “সবকিছুতে আমাদের একটা ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর আনতে হবে। যাতে বৈশ্বিক পরিমণ্ডল, নেগোসিয়েশন টেবিল থেকে কিছু নিয়ে আসতে পারি।”
তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি আন্তমন্ত্রণালয় ফোকাল টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ নিয়ে কাজ করা তরুণদেরও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
কপ-৩১-এ বাংলাদেশের অগ্রাধিকার নির্ধারণ, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি আদায় এবং অভিযোজন ও প্রশমনে কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট আলোচনায় উঠে আসে।
