রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণে আবারও অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকের পর্যটনকেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৪টার মধ্যে সাজেক ছেড়ে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে অনিবার্য কারণবশত এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পার্বত্য চুক্তি বিরোধী জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেয় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা যৌথ বিবৃতিতে জানান, সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র সদস্যরা এখনো অবস্থান করছেন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে।
এর আগেও বিভিন্ন দাবিতে একাধিকবার অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছিল স্থানীয় এই সংগঠনগুলো। ১১ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হলেও প্রশাসনের আশ্বাসে তা সাময়িক স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে দাবি পুরোপুরি পূরণ না হওয়ায় ১৫ অক্টোবর পুনরায় অবরোধ পালন করা হয়। তবে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন নেতারা। বারবার এই অবরোধ ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কারণে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বারবার পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ও সড়ক অবরোধের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, দুর্গাপূজার ছুটিতে বুধবার সকাল ও বিকেল মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেছেন। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং ঘন ঘন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পর্যটন খাত অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির প্রচার সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় সেনাবাহিনীর এসকর্টের মাধ্যমে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে দুটি এসকর্টের মাধ্যমে পর্যটকবাহী যান চলাচল করলেও বৃহস্পতিবার সকালে বিশেষ নিরাপত্তায় একটি এসকর্টের মাধ্যমেই তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান এবং সাজেক অঞ্চলে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
