আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃষ্টির জন্য বেঙ্গালুরুর পঞ্চম টি-২০ ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ২-২ ড্র হয়েছে। ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারও স্বীকার করে নিলেন, বোলিং ভাল হলে সিরিজের ফল অন্যরকম হতে পারত। সিরিজের চারটি ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছে। তারমধ্যে তিন ইনিংসেই ২০০-র বেশি রান করেছে। ভারতের বোলারদের ভুল লেন্থকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চতুর্থ টি-২০ ম্যাচেও ২৪৭ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষপর্যন্ত ভারত ২৪ রানে হেরে যায়। শ্রেয়স বলেন, 'দ্বিতীয় এবং চতুর্থ ম্যাচে আমরা আরও ভাল বোলিং করতে পারলে ফল অন্যরকম হতে পারত। তবে কৃতিত্ব ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটারদেরও দিতে হবে। পুরো সিরিজে সাই হোপ যেভাবে ব্যাট করেছে, তা প্রশংসনীয়।'
ভারতের দল গঠন নিয়েই এবার প্রশ্ন তুলেছেন সুনীল গাভাসকর। তাঁর মতে, আটজন ব্যাটার খেলানোর সিদ্ধান্তে বোলিং আক্রমণ দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। সিরিজের শেষ ম্যাচে ভারতের মূল বোলার ছিলেন মায়াঙ্ক যাদব, অর্শদীপ সিং এবং প্রিন্স যাদব। স্পিনার হিসেবে ছিলেন অক্ষর প্যাটেল। তাঁদের সঙ্গে বোলিংয়ে হাত ঘুরিয়েছেন নীতিশ রেড্ডি এবং নমন ধীর। গাভাসকরের পরামর্শ, চারজন বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে মাঠে নামা উচিত ভারতের। তাঁদের সঙ্গে পঞ্চম এবং ষষ্ঠ বোলিং বিকল্প হিসেবে অক্ষর ও নমনকে রাখা যেতে পারে। এই প্রসঙ্গে সানি বলেন, 'ভারতের অন্তত চারজন নিয়মিত বোলার নিয়ে খেলা উচিত। পঞ্চম এবং ষষ্ঠ বোলিং বিকল্প হিসেবে এমন অলরাউন্ডার দরকার, যারা ব্যাটও করতে পারে। অক্ষর পটেল এবং নামান ধীর সেই দায়িত্ব নিতে পারে।'
হার্দিক পাণ্ডিয়ার বিকল্প খুঁজতে গিয়ে ভারত যেন ভুল না করে, সেই বিষয়েও সতর্ক করেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। গাভাসকর বলেন, 'হার্দিককে হুবহু প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। তাঁর মানের ক্রিকেটার না পেলে অন্য ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারে, এমন কাউকে নিতে হবে। নামান ধীর সেই কাজটাই করছে। অক্ষর পঞ্চম নিয়মিত বোলার হতে পারে। আট নম্বর পর্যন্ত ব্যাটার খেলালে বোলিং দুর্বল হয়ে যায়। আর সেখানেই ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।'
গাভাসকরের যুক্তির পাশাপাশি ভারতের বর্তমান টি-২০ দলের সাফল্যও অস্বীকার করা যায় না। গৌতম গম্ভীরের কোচিংয়ে ভারত একাধিক টি-২০ বিশেষজ্ঞকে দলে রেখে লম্বা ব্যাটিং লাইন আপ তৈরি করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অথচ আক্রমণাত্মক ক্রিকেট, এই কৌশলই বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল। মুম্বইয়ে প্রথমে ব্যাট করে ভারত ২৫৩ রান করেছিল। শেষপর্যন্ত মাত্র ৭ রানে ম্যাচ জেতে। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেও ভারত তোলে ২৫৫ রান। গাভাসকরের প্রস্তাব অনুযায়ী, চার বিশেষজ্ঞ বোলার এবং দুই অলরাউন্ডার নিয়ে খেললে এমন লম্বা ব্যাটিং লাইন আপ পাওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে ভারতের সামনে মূল প্রশ্ন, বোলিংয়ে ভারসাম্য বাড়ানো, নাকি আগ্রাসী ব্যাটিংকেই অগ্রাধিকার দেওয়া? সিদ্ধান্ত নিতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে।
