পুজোর আনন্দ, ঘোরাঘুরি, আড্ডা আর পছন্দের খাবার; সব মিলিয়ে কয়েকটা দিন কেটেছে নিজের মতো করে। কিন্তু উৎসবের ছুটি শেষ হতেই আবার ফিরতে হয়েছে অফিস, পড়াশোনা আর দৈনন্দিন ব্যস্ততায়। আর সেখানেই সমস্যা! কাজে বসেও মনোযোগ মিলছে না, চোখে ঘুম আর শরীরজুড়ে আলস্য।
বারবার মনে পড়ছে ছুটির দিনগুলোর কথা। কিন্তু কাজ তো আর ফেলে রাখা যায় না। তাহলে কীভাবে কাটাবেন এই আলস্য? কীভাবেই বা ফিরবেন পুরোনো ছন্দে?
একসঙ্গে অনেক কাজ নয়:
ছুটি শেষ হওয়ার পর প্রথম দিনেই একগাদা কাজ নিয়ে বসবেন না। বরং কোন কাজগুলো বেশি জরুরি, তা আগে ঠিক করুন। একটি একটি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা করুন। এতে কাজের চাপ কমবে, পাশাপাশি মানসিক ক্লান্তিও কিছুটা দূর হবে।
পরিকল্পনা করে শুরু করুন:
দিনের শুরুতেই কাজের একটি তালিকা তৈরি করে নিন। কোন কাজ কখন করবেন, তার জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন। এতে অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট হবে না। কাজের অগ্রগতি বুঝতেও সুবিধা হবে। তবে তালিকা তৈরির সময় নিজের সামর্থ্যের বাইরে অতিরিক্ত কাজ রাখবেন না।
শরীরচর্চায় ফিরুন:
পুজোর সময় খাওয়াদাওয়া ও ঘুমের রুটিনে পরিবর্তন আসতেই পারে। তাই ছুটি শেষে নিয়মিত সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস ফিরিয়ে আনুন। পাশাপাশি সকালে কিছুক্ষণ হাঁটুন বা হালকা ব্যায়াম করুন। এতে শরীর চাঙা রাখতে এবং মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য মিলতে পারে।
কাজের মাঝে বিরতি নিন:
একটানা কাজ করলে ক্লান্তি ও একঘেয়েমি বাড়তে পারে। তাই কাজের ফাঁকে অল্প সময়ের বিরতি নিন। কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন, পানি পান করুন কিংবা চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিন। তবে বিরতির সময় মোবাইল ফোনে দীর্ঘক্ষণ ব্যস্ত হয়ে পড়বেন না।
নিজের জন্যও সময় রাখুন:
ছুটি শেষ মানেই আনন্দের দিন শেষ নয়। কাজের পাশাপাশি নিজের পছন্দের কাজের জন্য সময় রাখুন। গান শোনা, বই পড়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা সপ্তাহান্তে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। এতে কাজের একঘেয়েমি কাটাতে সুবিধা হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ছুটির পরপরই আগের মতো কর্মক্ষম হওয়ার জন্য নিজেকে চাপ দেবেন না। ধীরে ধীরে রুটিনে ফিরুন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখুন। তাহলেই ধীরে ধীরে কাটবে ছুটির আমেজ, ফিরবে কাজের ছন্দ।
