তেহরান,১৩ অক্টোবর- বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীটির দাবি, তাদের হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির হামলার শিকার জাহাজটি ট্রান্সপন্ডার বা শনাক্তকরণ সংকেত পাঠানোর ব্যবস্থা বন্ধ রেখে এবং সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করেছিল। এ ছাড়া প্রণালিটিতে আলাদা চারটি ঘটনায় জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে তেহরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের এই অবরোধের জবাবে দেশটির বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী দাবি করছে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নিয়মিত পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করা জাহাজগুলোতে প্রায়ই হামলা চালাচ্ছে তেহরান। আইআরজিসির সংবাদমাধ্যম ‘সেপাহ নিউজে’ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বাহিনীটির নৌবাহিনী জানায়, ‘হরমুজ প্রণালিতে একটি সুপারট্যাংকারে আঘাত হানা হয়েছে এবং সেটিতে আগুন ধরে গেছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সোমবার (১২ অক্টোবর) হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া জাহাজটি নিজের অবস্থান শনাক্ত করার সংকেত পাঠানোর ব্যবস্থা বন্ধ রেখে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। পাশাপাশি জাহাজটি আইআরজিসির নৌবাহিনীর সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করেছিল।
এর আগে গত শনিবার আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার আলি ওজমায়ি সতর্ক করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় নিজেদের শনাক্ত হওয়া এড়াতে যেসব জাহাজ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখবে, সেগুলোকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এসব জাহাজের বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সে সময় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে, ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও সোমবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আলাদা চারটি ঘটনায় জাহাজে আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।
এস এম/ ১৩ অক্টোবর ২০২৬
