উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রোমার মাঠে ম্যাচের ৮৩ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ সাত মিনিটে তিন গোল করে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিয়ে ফিরেছে হোসে মরিনিয়োর দল। সাবেক কোচ মরিনিয়োকে সম্মান জানিয়ে খেলা শুরুর আগে গ্যালারিতে বিশাল টিফো প্রদর্শন করেছিলেন রোমার সমর্থকরা। তবে দীর্ঘ সময় ম্যাচে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় পরাজয় মেনেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ইতালিয়ান ক্লাবটিকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে আধিপত্য বজায় রেখে খেলতে থাকে রোমা। পঞ্চম মিনিটে পাওলো দিবালা ও মারিও হারমোসোর আক্রমণ দুর্দান্ত দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তবে সপ্তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত লিড পেয়ে যায় স্বাগতিকরা; ডি-বক্সের বাইরে থেকে ডাচ মিডফিল্ডার মার্টেন ডি রুনের জোরালো শট রিয়ালের জালে জড়ায়। এর পাঁচ মিনিট পরই অবশ্য রোমার রক্ষণের ভুলের সুযোগে রিয়ালকে সমতায় ফেরান কিলিয়ান এমবাপে। তাঁর নেওয়া জোরালো শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে ক্রসবার ঘেঁষে জালে পৌঁছালে ১-১ সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হয়।
বিরতির পর নেমে ফের এগিয়ে যায় রোমা। ৫১তম মিনিটে কোর্তোয়ার বাড়ানো পাস নিয়ন্ত্রণে না নিয়ে ব্যাকহিল করতে গিয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বল হারালে প্রতিআক্রমণ থেকে গোল করেন ডনিয়েল মালেন। এরপর ছয় মিনিট না যেতেই মাতিয়াস সুলের চমৎকার রক্ষণচেরা পাস ধরে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে রোমাকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই ডাচ ফরোয়ার্ড।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর খেলায় গতি আনতে ভিনিসিয়ুস ও ডেনজেল ডাম্প্রিসকে তুলে মাঠে ফেলিপে এন্ড্রিক ও তুর্কি মিডফিল্ডার আর্দা গুলারকে নামান রিয়াল কোচ। এই কৌশলগত পরিবর্তনই ম্যাচের রূপ বদলে দেয়। গুলারের ক্রসে ৮৩তম মিনিটে ফেদেরিকো ভালভের্দের হেড গোলরক্ষক ফেরালেও ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-২ করেন বদলি খেলোয়াড় কার্লোস এস্পি। এর মাত্র দুই মিনিট পর গুলারের কর্নার থেকে লাফিয়ে উঠে দারুণ হেডে রিয়ালকে ৩-৩ সমতায় ফেরান তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এন্ড্রিক।
নির্ধারিত ৯০তম মিনিটে আসে জয়সূচক মুহূর্তটি। গুলারের আরেকটি নিখুঁত কর্নার থেকে তৈরি হওয়া জটলার ভেতর আলতো টোকায় বল জালে জড়ান জার্মান ডিফেন্ডার অ্যান্তোনিও রুডিগার। মাত্র সাত মিনিটের এই তাণ্ডবে ৪-৩ গোলের জয় নিশ্চিত করে রিয়াল মাদ্রিদ। এই নাটকীয় জয়ের সুবাদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পয়েন্ট তালিকায় অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা, অন্যদিকে হতাশার হারে রোমা নেমে গেছে ২৫ নম্বরে।
