মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানকে ঘিরে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার উদ্বেগে বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ দশমিক ৭২ ডলারে ওঠে। মে মাসের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ দাম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা, সাবমেরিন কেবল, তথ্যকেন্দ্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান। এতে আঞ্চলিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ইন্টারঅ্যাকটিভ ইনভেস্টরের রিচার্ড হান্টার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছে—এমন খবরই তেলের দাম বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল। তাঁর মতে, সংঘাতটি স্বল্পস্থায়ী হবে বলে অনেকে ধারণা করলেও তা দীর্ঘায়িত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলার ছিল। এপ্রিলের শেষ দিকে তা বেড়ে ১২৬ ডলারে পৌঁছায়।
এদিকে চলতি সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দাবি করেছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কার মধ্যে সৌদি আরব থেকে কিছু কূটনীতিক ও মার্কিন সরকারি কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসানা স্ট্রিটার বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনের পর ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানো হতে পারে—এমন আশঙ্কা বাজারে প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের স্থাপনায় হুথিদের হামলা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও দাম আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
