ইসরাইলে প্রায় ৭৩ লাখ ভোটার ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হওয়ার মাত্র তিন দিন বাকি থাকতে, হিব্রু ভাষার দৈনিক ‘ইয়েদিওত আহরোনোত’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে দেশটির প্রধান রাজনৈতিক শিবিরগুলোর কোনোটিই সহজে সরকার গঠন করতে পারছে না। ফলে দেশটিতে আরেকটি নতুন নির্বাচনের পথ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রকাশিত জনমত জরিপ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সমীক্ষায় এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার ইঙ্গিতই মিলছে। তবে ভোটারদের উপস্থিতি, নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে না পারা দলগুলোর ভোট নষ্ট হওয়া এবং দলীয় প্রধানদের শেষ মুহূর্তের অবস্থানের পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচনী ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তনও আসতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দুর্নীতির অভিযোগে বিচার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও আরেকটি মেয়াদের জন্য লড়ছেন। তার নেতৃত্বাধীন লিকুদ দল এবং কট্টর ডানপন্থী জোটের সঙ্গে বিরোধী ব্লক— যার মধ্যে গাডি আইসেনকোটের ইয়াশার দল এবং ইয়ার লাপিদের ইয়েশ আতিদ অন্তর্ভুক্ত— একটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত রয়েছে।
ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে এই নির্বাচন আবারও রাজনৈতিক অচলাবস্থার জন্ম দিতে পারে।
ইরান হামলা সংক্রান্ত দৃশ্যপট
এদিকে, ‘মারিভ’ পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নির্বাচনে জয়ী হলেও ইরানের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে তার বড় কোনো রাজনৈতিক সুবিধা থাকবে না।
রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, ইয়াশার দলের নেতা গাডি আইসেনকোট যদি বিজয়ী হন, তবে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে নেতানিয়াহু কোনো হামলার নির্দেশ দিতে পারবেন না। এছাড়া, এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও রাজনৈতিক সমর্থন নেতানিয়াহুর নেই বলে সামরিক নেতৃত্ব তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
