মাগুরায় পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে মাগুরা প্রেস ক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এদিকে, আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন মোটর শ্রমিকরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ থাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার পরিবহনের যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ।
আরো পড়ুন: ‘আমাদেরও মেরে ফেলুক, স্বামী ছাড়া ২ মেয়েকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব’
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, প্রকাশ্যে একজন রাজনৈতিক নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা না হলে কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে।
যুবদল নেতা শাকের হত্যার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেন মোটর শ্রমিক নেতারা
এদিকে, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা শাকের হোসেনের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরে ঘটনাস্থলে আসেন সহকারী সুপার নিশাত আল নাহিয়ান। তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। পরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আরো পড়ুন: মাগুরায় যুবদল নেতা হত্যা, মামলা করলেন স্ত্রী
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহন কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেন। হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন নাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আরো পড়ুন: মাগুরায় যুবদল নেতা শাকের হত্যা, আটক ২
মামলা দায়েরের পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের কমিটির সদস্য রনি শিকদার এবং মাগুরা সদর উপজেলার বজরুক শ্রীকুন্ডি এলাকার বাসিন্দা লুৎফর রহমানের মেয়ে শামীমা তাবাসসুম লুবনা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তাদের আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
