
জালালাবাদ ডেস্ক : গণভোটের রায় না মেনে বিএনপিই বিরোধীদলকে আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলয়ি নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে মুক্ত এ কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিএনপি গণভোটের মূল্যায়ন করলে তাদের আপাতত জাতীয় সংসদের বাইরে আন্দোলন করতে হতো না। বিরোধী দল এত আগে কেন আন্দোলনে, এ প্রশ্ন আসার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা তো চাইনি। আমরা তো চেয়েছিলাম, জাতি ভোট দিয়েছে একটা সরকার গঠন করে পাঁচ বৎসর চালানোর জন্য। আরেকটা ভোট দিয়েছে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য। দুইটা ভোটের মূল্যায়ন যদি বিএনপি করত, আমাদের এক সেকেন্ডের জন্যও পার্লামেন্টের বাইরে আন্দোলন করতে হতো না। তারাই আমাদের আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছেন।
রাষ্ট্র সংস্কারে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে জনগণ সমর্থন দিলেও গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপি শপথ নেয়নি। তার বদলে সংবিধান সংশোধনে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার বিরোধিতা করে আসছে বিরোধী দল জামায়াত ও তার মিত্ররা। গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে মাঠে নেমেছেন তাদের জোট ১১ দলীয় ঐক্য।
সংস্কারের বিষয়ে সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি বিএনপির বিরুদ্ধে ওয়াদা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কত জায়গায় তারা ওয়াদা লঙ্ঘন করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম না নিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, চমৎকার একটা কথা ‘সর্বমন্ত্রী’ সাহেব আমাদের পার্লামেন্টে বললেন। ‘সর্বমন্ত্রী’ চিনেন তো আপনার ? উনি পার্লামেন্টে বললেন যে, গণভোটে চারটার মধ্যে ৪১টা, আমি নিজেই বুঝি না, জনগণ কি এটা বুঝে। আমরা জানতে চেয়েছিলাম, আপনাদের এখাতে তো চারটা দফা, ওখানে ছিল ৩১টা দফা। যদি জনগণ চারটা না বুঝে, তো ৩১টা বুঝল কীভাবে। ওইটাও তো বুঝার কথা না।
তিনি বলেন, জনগণকে ওনারা মুর্খ মনে করেন। জনগণকে অবমূল্যায়ন করেন। নিজেকেই শুধু জ্ঞানী মনে করেন। জামায়াত আমীরের অভিযোগ, বিএনপি সরকার প্রত্যেকটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে ‘হাত’ দিয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্ররা যে কারণে রাস্তায় প্রথমে নেমে এসেছিল, এটা তাদের মেধার অধিকার আদায় করে নেওয়ার দাবি; ‘যে মেধার ভিত্তিতে আমার যোগ্য স্থান চাই আমার রাষ্ট্রে, আমি রাষ্ট্রকে সেবা দিতে চাই।’ আর এটি হয়ে থাকে পিএসসির মাধ্যমে, একটার পর একটা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার পর এখন পিএসসির উপরও হাত পড়েছে।
বিরোধী দলীয় নেতার অভিযোগ, কোনো একজন মন্ত্রী ডেকে নিয়ে চায়ের টেবিলে এখন নাকি পিএসসির মেম্বারদেরকে বলছেন, ‘বুঝেন তো এখন রাজনৈতিক সরকার, আর সরকারের ডিজায়ার আপনি যেন চলে যান। আমি এই কথাটা বলতে আমার কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু আমি বাধ্য হচ্ছি। আমাকে বলা হয়েছে এটা আপনাকে জানানোর জন্য।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পিএসসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কোনো মন্ত্রীর এটা পারিবারিক ব্যবসা নয়। কোনো মন্ত্রীর কোনো অধিকার নাই, পিএসপির কোনো মেম্বারকে এ কথা বলার। তার মানে কী, তার মানে জবের ওই আসল জায়গাটা এখন পুরাপুরি দলীয় ক্যাডার দ্বারা ওনারা পরিপূর্ণ করতে চান। এ জন্য এখন মাঝে মাঝে বলে ফেলেন না ওনারা যে, এই জিনিস, ওই জিনিস, শুধুমাত্র বিএনপি আর তার অঙ্গ সংগঠনের জন্য। তিনি সরকারি বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। যেখানে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেননি সেখানে তারা বরাদ্দ দেবেন না বলেও অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খা, জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি এবং প্রত্যাশিত রাষ্ট্র সংস্কারের অগ্রগতি পর্যালোচনায় ‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার ১ বছর : সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভাটির আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
