আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লি হাইকোর্ট বুধবার রাজধানীতে চলা ছাত্র বিক্ষোভের সঙ্গে ফ্রান্সে চলমান আন্দোলনের তুলনা টানল। 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা তাঁদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের বিরুদ্ধে একটি আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই আবেদনের শুনানিতেই আদালত এই মন্তব্য করে।
বিচারপতি সুব্রামোনিয়াম প্রসাদ, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার দায়ের করা রিট পিটিশনটি গ্রহণ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। যার বিরুদ্ধেই তাঁরা আবেদন করেছিলেন। বিচারপতি প্রসাদ সিজেপি নেতাদের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, যন্তর মন্তর এলাকাটিকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করার পরও তাঁরা সেখানে ব্যারিকেড ভেঙে আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং মুচলেকা (বন্ড) ভঙ্গ করেছেন।
বিচারপতি বলেন, "আপনারা যখন ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢোকেন, তখন আরও ১০-২০ জন ব্যক্তির আইন (ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-র ১৬৩ ধারা) লঙ্ঘনের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে ওঠে। এমনও হতে পারে যে, যারা আপনাদের দলের সদস্য নয়, তারাও সেখানে উপস্থিত থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে ফেলতে পারে।"
ফ্রান্সের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে হাইকোর্ট বলে, "আমরা আমাদের দেশের বাইরেও এমনটা ঘটতে দেখছি। ছাত্র বিক্ষোভ হিসেবে শুরু হওয়া আন্দোলন শেষ পর্যন্ত অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে রূপ নিয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতেই পুলিশের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন, যাতে বাইরের কোনও অবাঞ্ছিত ব্যক্তি আপনাদের দলে মিশে গিয়ে আপনাদের সুনাম নষ্ট করতে না পারে।"
হাইকোর্টের পরামর্শ: রিভিশন আদালতের দ্বারস্থ হোন
হাইকোর্ট আবেদনকারীদের পরামর্শ দেয় যে, হাইকোর্টে আসার আগে তাঁদের প্রথমে রিভিশন (নিম্ন) আদালতের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, যেহেতু তাঁরা মুচলেকা ভঙ্গ করেছেন, তাই এর প্রতিকার পাওয়ার আইনি পথ হল রিভিশন আবেদন করা। এছাড়া আদালত উল্লেখ করে যে, যন্তর মন্তর এলাকাটিকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি বাতিলের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে এবং সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির ওপর এখনও কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি।
আদালত জানায়, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে মুচলেকা ভঙ্গের বিষয়টি আইনত কতটা গ্রহণযোগ্য, তা পরবর্তী সময়ে খতিয়ে দেখা হবে। শুনানি চলাকালীন, হাইকোর্ট জুন-জুলাই মাসে ‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে হওয়া ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গও উত্থাপন করে। এই আন্দোলনে দাস ও রাঙ্কা যুক্ত ছিলেন। আদালত মৌখিক পর্যবেক্ষণে বলে যে, এঁরা ‘জেন জি’ প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত নন। দাস ও রাঙ্কার বয়স যথাক্রমে ২৭ ও ৩২ বছর। যা উল্লেখ করে উচ্চ আদালত বলে, “তাহলে আপনারা তো ‘জেন জি’ নন। ‘মিলেনিয়াল’ প্রজন্ম কোন বয়সের অন্তর্ভুক্ত? সেটি ছিল একটি ছাত্র আন্দোলন। সেখানে শিক্ষার্থীরা ছিল, কিন্তু এখনকার বিষয়টি অন্য।”
উচ্চ আদালত আরও বলে, “পরবর্তী প্রশ্নগুলো হবে- আপনারা কারা? আপনারা কী? আপনাদের সংগঠনটি কী? এই সংগঠনের উদ্দেশ্যই বা কী? অনুগ্রহ করে বুঝুন, যখন শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তখন এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।”
সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিচার বিভাগীয় হেফাজত
সিজেপি নেতাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর যে নির্দেশ এসইএম আদালত দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে তাঁরা হাইকোর্টে একটি জরুরি আবেদন জানিয়েছিলেন। এই হেফাজতের মেয়াদ আজ শেষ হচ্ছে। তবে, কেন তাঁরা আইনি প্রতিকারের অন্যান্য বিকল্প পথ অবলম্বন করেননি, আদালতের এই প্রশ্নের পর দাস ও রাঙ্কা তাঁদের আবেদনটি প্রত্যাহার করে নিতে সম্মত হন।
নির্বাচনী তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর)-এর প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে সিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভের পর থেকে, ১৩ অক্টোবর থেকে দাস ও রাঙ্কা কারাগারে রয়েছেন। দলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেছে।
এর আগে মঙ্গলবার এক ভিডিও বার্তায়, সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এই বিক্ষোভের সঙ্গে বিদেশের হিংসা আন্দোলনের তুলনার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, এই দুই নেতা মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহ ও অহিংসার পথ বেছে নিয়েছিলেন।
