রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন এলাকায় টানা দুই দিনের তৎপরতা ও অভিযানের পরও বন্ধ হয়নি মাদক কারবার। পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানের পর পুরোনো চক্রের সদস্যরা পাশের জুরাইন গোরস্তান এলাকায় নতুন করে মাদক সেবন ও বিক্রির আস্তানা গড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে গেন্ডারিয়ার ঘুন্টিঘর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে থানা পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা সবাই মাদকসেবী। তাদের কাছ থেকে গাঁজাসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং-সংলগ্ন ঘুন্টিঘর এলাকা অনেকটাই নীরব। মানুষের উপস্থিতি কম, অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। স্থানীয় বাসিন্দা ও মুদিদোকানি রাজিফুল হাসান জানান, সকালের অভিযানের পর মাদক কারবারিরা জুরাইন গোরস্তানের পাশে নতুন আস্তানা গড়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ঘুন্টিঘর এলাকা থেকে কিছুটা দূরে জুরাইন গোরস্তানের পাশে নতুন করে মাদক সেবন ও বিক্রি চলছে। অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হলেও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত পুরোনো চক্রের সদস্যরা আশপাশের এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। পরিচিত মুখের লোকজনের আনাগোনা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুল।
তিনি বলেন, এক এলাকায় অভিযান চালানো হলে মাদক কারবারিরা আশপাশের অন্য এলাকায় সরে গিয়ে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করেন। ফলে শুধু একটি নির্দিষ্ট স্থানে অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুলিশ অভিযান শুরু করলে মাদক সেবন ও কারবারে জড়িত ব্যক্তিরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। অনেকে দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। কিন্তু অভিযান শেষ হলে ওই এলাকায় আবারও মাদকের আড্ডা বসে। মঙ্গলবার সকালে তিনজনকে আটকের পর বিকাল পর্যন্ত সেখানে মাদক বিক্রেতা ও সেবীদের দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, গতকালের যৌথ অভিযানের পরও ঘুন্টিঘর এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবন চলছিল। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালেও সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের সবাই মাদকসেবী। তাদের কাছে গাঁজাসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।
ওসি বলেন, ওই এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। তবে সেখানে ভাসমান মাদক বিক্রেতা ও সেবীদের আনাগোনা বেশি থাকায় পুরোপুরি মাদক নির্মূল করা যাচ্ছে না। স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করছে পুলিশ। পূজা শেষ হলে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। প্রয়োজনে সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রাখা হবে।
জুরাইন গোরস্তানের পাশে মাদক কারবারিদের উপস্থিতির অভিযোগ সম্পর্কে ওসি বলেন, জুরাইন কবরস্থান শ্যামপুর থানার আওতাধীন এলাকা। তাই ওই এলাকার বিষয়ে তারা অবগত নন।