চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) টানা ২১ দিনের অচলাবস্থার মধ্যে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে এসে তিনি প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নির্ধারিত আলটিমেটামের মধ্যে উপাচার্য ভবন না ছাড়লে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। পরে উপাচার্য ভবনের ফটকে দেওয়া তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তি ও চুয়েট শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকে দেখা যায়। পরে তারা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
তবে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ দাবি করেন, উপাচার্য যখন দপ্তরে প্রবেশ করেন, তখন তারা সেখানে ছিলেন না। উপাচার্যের ক্যাম্পাসে আসার খবর পেয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছিলেন তারা।
এদিকে উপাচার্যের এভাবে দপ্তরে প্রবেশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আফিফ কবির বলেন, তাদের এক দফা দাবি- সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে শাটডাউন কর্মসূচি চলবে।
বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিহা সাবনাম সংশ্লিষ্টদের আপত্তি উপেক্ষা করে তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে প্রবেশের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণবও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তালা ভেঙে উপাচার্যের দপ্তরে প্রবেশের বিষয়ে জানতে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সামিউন বশীরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করা হয়। একই দিন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
নানামুখী প্রতিবাদের মুখে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র পাঠিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে আন্দোলনের কারণে এত দিন তিনি ক্যাম্পাসে আসতে পারেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১১ ও ১২ অক্টোবর ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপাচার্যের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য ১০ অক্টোবর বিকেলে তার ঢাকায় যাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তার অনুপস্থিতিতে ১১ ও ১২ অক্টোবরের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এ সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
পূর্বঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী উপাচার্যের ঢাকায় অবস্থান করার কথা থাকলেও সোমবার সকালে হঠাৎ তার ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
টানা ২১ দিনের অচলাবস্থায় চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে সেশনজটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। নির্ধারিত আল্টিমেটামের মধ্যে নতুন উপাচার্য ভবন না ছাড়লে আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ফলে চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
