আজকাল ওয়েবডেস্ক: জাতিসংঘের মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে পাকিস্তানের দ্বিচারিতাকে আবারও কঠোর ভাষায় তুলোধোনা করল ভারত। কড়া যুক্তি আর অকাট্য প্রমাণের মুখে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় কিংবা জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে কথা বলার কোনও নৈতিক অধিকারই পাকিস্তানের নেই।
জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ভাবিকা মঙ্গলানন্দন ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশেষ পরিস্থিতিতে শেষকৃত্যের অধিকার সংক্রান্ত এক আলোচনায় পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দেন। ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, চরম পরিহাসের বিষয় হল, যে দেশ কারগিলে নিহত নিজের সেনাদের মরদেহ নিতে পর্যন্ত অস্বীকার করেছিল, তারা আজ ধর্মীয় স্বাধীনতা আর শেষকৃত্যের অধিকার নিয়ে বড় বড় কথা বলছে! তিনি স্পষ্ট মনে করিয়ে দেন, সেই সময় পাকিস্তানি সেনাদের পূর্ণ সামরিক সম্মান ও ইসলামিক রীতি মেনে কবর করেছিল খোদ ভারতীয় সেনাবাহিনী।
মঙ্গলানন্দন আরও বলেন, পাকিস্তানের উচিত ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরের দিকে নজর না দিয়ে তাদের বেআইনিভাবে দখল করে রাখা ভূখণ্ড—বিশেষ করে রাওয়ালাকোটের পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া। পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা দিন দিন কমছে এবং তাদের মৌলিক অধিকার প্রতিনিয়ত লঙ্ঘিত হচ্ছে। নিজের দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ যে রাষ্ট্র, ভারতের মতো দেশকে তাদের অন্তত জ্ঞান দেওয়া শোভা পায় না।
এর পাশাপাশি জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধির পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করেছে ভারত। কোভিড অতিমারীর সময়ে নানা অনিয়ম ও বৈষম্য নিয়ে প্রতিবেদনে কেবল উন্নয়নশীল দেশগুলোর দিকেই আঙুল তোলা হয়েছে, অথচ উন্নত বিশ্বের কোনও কথাই উল্লেখ করা হয়নি। মানুষের শোক ও মৃত্যুকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের কাজ হওয়া উচিত নয় বলে স্পষ্ট জানান ভাবিকা মঙ্গলানন্দন। সন্ত্রাসীদের শেষকৃত্যের অধিকার নিয়ে অতি-উদারতা দেখানো হলেও তাদের নির্মম শিকারে পরিণত হওয়া নিরপরাধ মানুষদের অধিকারের বিষয়টি যেভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, তাতে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারত। একজন সন্ত্রাসী শুধু নিরপরাধ মানুষকেই হত্যা করে না, একটি গোটা দেশের মনস্তত্বকেও আঘাত করে।
অন্যদিকে, ভারতের আরেক ফার্স্ট সেক্রেটারি রঘু পুরী পাকিস্তানের সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অতীত তুলে ধরে দাউদ ইব্রাহিমের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৩-এর মুম্বাই হামলার মূল চক্রী ভারতে সন্ত্রাস চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর কীভাবে আল-কায়েদা ও ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানের যে অ্যাবোটাবাদে খুঁজে পেয়ে নিকেশ করা হয়েছিল, আজ আন্তর্জাতিক অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত দাউদও সেখানেই বুক ফুলিয়ে আশ্রয় পেয়ে বসে রয়েছে। রাষ্ট্রনীতি হিসেবে সীমান্তপারের সন্ত্রাসকে ব্যবহার করা ব্যর্থ একটি দেশের মিথ্যাচার আন্তর্জাতিক মঞ্চে আর টিকবে না বলেই সাফ জানিয়ে দিয়েছে ভারত।
