ভালো নেই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা
অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনাকে। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে গত ১৩ দিন চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। অভিনয়শিল্পী সংঘের আইন ও কল্যাণ সম্পাদক সূচনা সিকদার এসব তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। অভিনয়শিল্পী সংঘের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল খালেদা আক্তার কল্পনাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। অভিনেত্রী সূচনা সিকদার বলেন, ‘সবার প্রিয় কিংবদন্তি অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা আন্টি গুরুতর অসুস্থ। গত ১৩ দিন ধরে ইনসাফ বারাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে বর্তমানে আগের চেয়ে অনেকটা ভালো আছেন তিনি।’ খালেদা আক্তার কল্পনা ভাইরাসজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তার নিউরোর সমস্যাও রয়েছে, ৪/৫ দিন কথা বলতে পারছিলেন না। তবে এখন অনেকটাই সুস্থ। চলতি সপ্তাহের মধ্যে বাসায় ফিরতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন সূচনা সিকদার। সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন খালেদা আক্তার কল্পনা। তা জানিয়ে সূচনা সিকদার বলেন, ‘তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। মহান আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থতা দান করেন এবং সুস্থভাবে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন।’ কয়েক মাস আগে খালেদা আক্তার কল্পনার শারীরিক অবস্থা বর্ণনা করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য সনি রহমান বলেছিলেন, ‘বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়াই স্বাভাবিক। কল্পনা আপুও সেই বাস্তবতার মধ্য দিয়েই যাচ্ছেন।’ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৯৮৪ সালে চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু করেন খালেদা আক্তার কল্পনা। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি—দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। পরিচালক মিজানুর রহমানের ‘হনুমানের পাতাল বিজয়’ দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক হলেও তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিল মতিন রহমান পরিচালিত ‘রাধাকৃষ্ণ’। অভিনয়ে আসার আগের গল্পটাও যেন সিনেমার মতোই। শিক্ষকতা ছিল তার পেশা। একদিন লন্ড্রি থেকে আনা কাপড়ের ভাঁজে হঠাৎ চোখে পড়ে একটি বিজ্ঞাপন—‘নতুন মুখের সন্ধানে’। কৌতূহল থেকে আবেদন করেছিলেন, তারপর ভুলেও গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ছোট্ট কাগজটিই বদলে দেয় তার পুরো জীবন, এনে দেয় আলো-ঝলমলে এক যাত্রা। তবে সময়ের কাছে মানুষকে হার মানতে হয়। ফলে কর্মমুখর সেই মানুষটি নিভৃতে, নীরবে সময় কাটাচ্ছেন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে। পর্দার উজ্জ্বল এই মুখের জন্য সহকর্মী, ভক্ত-অনুরাগীদের একটাই প্রার্থনা—আবার সুস্থ হয়ে হাসিমুখে কর্মব্যস্ত সময়ে ফিরে আসুক প্রিয় খালেদা আক্তার কল্পনা। খালেদা আক্তার কল্পনার উল্লেখযোগ্য সিনেমা হলো- পাতাল বিজয়, রাধাকৃষ্ণ, তিনকন্যা, ঢাকা ৮৬, সন্ধি, আগমন, দায়ী কে, রকি, বীরপুরুষ, মায়ের কান্না, ডন, ববি, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সন্ত্রাস, লক্ষীর সংসার, চাকর, দোলা, অন্ধ প্রেম, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, পালাবি কোথায়, আনন্দ অশ্রু, শিল্পী, সতর্ক শয়তান, জিনের বাদশা, অচেনা, মহাগুরু, ফাঁসি, পাগল মন, অচল পয়সা, অচেনা মানুষ, বিদ্রোহী প্রেমিক, বাঘা বাঘিনী, বাঁশিওয়ালা, শেষ আঘাত, বাবার বাবা, কাসেম মালার প্রেম, লাভ, আয়না বিবির পালা, জিদ্দি, প্রেমের নাম বেদনা, নারী আন্দোলন, খুনের পরিণাম, বেপরোয়া, ফাঁসির আসামী, চাঁদকুমারী চাষার ছেলে, লাল সবুজ, মোহনমালার বনবাস, আঁখি মিলন, হৃদয় শুধু তোমার জন্য, নয়া বাইদানি, কান্দ কেন মন, গুণাই বিবি, ফাইভ রাইফেলস, গহর বাদশা বানেছা পরী, আখেরি হামলা, দুঃখিনী মা, ও আমার ছেলে, ঠাণ্ডা মাথার খুনি, বিচ্ছু বাহিনী, সাহসী মানুষ চাই, ভালোবাসা কারে কয়, লাল বাদশা, মেঘের পরে মেঘ, আমার প্রাণের প্রিয়া, ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না, গহীনে শব্দ, কুসুম কুসুম প্রেম, ডন নাম্বার ওয়ান ইত্যাদি।

সাত মাস পর শুটিংয়ে ফিরলেন আলভী
গত ফেব্রুয়ারিতে নাটকের শুটিংয়ে নেপাল গিয়েছিলেন অভিনেতা যাহের আলভী। সেখানে শুটিং চলাকালেই পান স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার খবর। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয় আলভীর বিরুদ্ধে। ইকরার পরিবার ও তার বান্ধবীরা অভিযোগ করেন, সহশিল্পী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে ছিলেন আলভী, এ কারণেই আত্মহত্যা করেছেন ইকরা। এই মামলায় জেল ও রিমান্ডের মুখোমুখি হয়েছেন আলভী। জেল-রিমান্ড পেরিয়ে সাত মাস পর নাটকের শুটিংয়ে ফিরলেন তিনি। সোমবার সামির রহমান রাব্বির পরিচালনায় ‘বাবার মর্যাদা’ নামের নাটকের শুটিংয়ে অংশ নেন আলভী। এতে তার বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন শিবা শানু। শুটিং ইউনিটে কলাকুশলীদের নিয়ে কেক কেটেছেন আলভী। সেই ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ছোট্ট একটা উদ্যাপন, কিন্তু অনেক বড় অনুপ্রেরণা। ফিরে আসার হাওয়া।’ শুটিং সেট থেকে শিবা শানু ও যাহের আলভীর সঙ্গে ছবি শেয়ার করে আলভীকে অভিনয়ের নতুন ইনিংসের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন নির্মাতা সামির রহমান রাব্বি। ফেব্রুয়ারিতে ইকরার মৃত্যুর পর বেশ কয়েক মাস নেপালেই ছিলেন যাহের আলভী। সেখান থেকে একাধিক ভিডিও বার্তায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি। একটি ভিডিওতে স্ত্রীকে দোষারোপ করে নেটিজেনদের তোপের মুখেও পড়েছিলেন। গত ১৮ জুন নেপাল থেকে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ২৪ জুন দুই দিনের রিমান্ড শেষে আবার কারাগারে নেওয়া হয় তাকে। এরপর ৩ আগস্ট আদালত জামিন দেন যাহের আলভীকে।

ভারতের আন্দোলনে ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’ গান ব্যবহার!
ককরোচ জনতা পার্টি, ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন করছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১২ সেপ্টেম্বর ‘মার্চ টু সুপ্রিম কোর্ট’-এর ডাক দিয়েছিল কংগ্রেস সমর্থিত ইন্ডিয়া জোট। জোটের ডাকা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, সমাজবাদী পার্টি ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিসহ মোট ২০টি দলের নেতাকর্মীরা। ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেস ত্রিপুরার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আন্দোলনের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে গায়িকা নাজনীন আখতার মৌসুমী চৌধুরীর গাওয়া ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’ গানটি। গানের কথা ও সুর করেছেন ইথুন বাবু। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের আর. জি. কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রতিবাদী আন্দোলনেও অনেকের মুখে শোনা গিয়েছিল এই গানটি। গানটি প্রকাশিত হয় ২০২২ সালে। ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’ গানটি মৌসুমীর কণ্ঠে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও এটি প্রথম মঞ্চে গেয়েছিলেন খুলনার বাসিন্দা রুকসার রহমান। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গানটি নতুন করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

অভিনেতা সমু চৌধুরীকে পিটিয়ে জখমের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১
যশোর শহরের বেজপাড়া নলডাঙ্গা এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে হামলার শিকার হয়েছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র ও নাট্যশিল্পী সমু চৌধুরী। মঙ্গলবার ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা নিয়ে বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটে। হামলার পর যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হলে পুলিশ ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে যশোরের কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় জাহাঙ্গীর তালুকদার (৩৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়ির সামনে ময়লা-আবর্জনা ফেলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা নিয়ে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজের কর্মচারীদের সঙ্গে সমু চৌধুরীর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে গ্যারেজের কর্মচারী জাহাঙ্গীর ও হৃদয় তাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি বাড়ি ফিরে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মিঠুন কুমার দে জানান, সমু চৌধুরীর মাথায় কাটা জখম হয়েছে। ক্ষতস্থানে কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফিরে গেছেন। এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, অভিনেতা সমু চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। হামলার শিকার সমু চৌধুরী নিজেই মামলার বাদী হয়েছেন। এর মধ্যে জাহাঙ্গীর নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

‘পিসি’ বলে মমতার দিকে ছুটে গেলেন তরুণী, কাছে মিললো ছুরি
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাসভবন থেকে দুর্গাপূজার মণ্ডপ উদ্বোধনে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৩৮ বছর বয়সী অনুসূয়া সাহা নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে ওই তরুণী তাকে ‘পিসি’ বলে সম্বোধন করে তার দিকে ছুটে যান। একপর্যায়ে তিনি মমতার শাড়ি ধরে টান দেন বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। পরে ওই নারীর কাছে একটি ছুরি পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তারা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মমতার দিকে ছুটে যাওয়ার পর ওই নারী রাস্তায় শুয়ে পড়েন এবং গালিগালাজ করতে থাকেন। এ সময় উপস্থিত দলীয় কর্মীরা তাকে ধরে মাটিতে চেপে রাখেন। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য দোলা সেন অভিযোগ করেছেন, ওই নারী মাদকের প্রভাবে ছিলেন এবং তার হাতে একটি ছুরি ছিল। নিজেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝি পরিচয় দিয়ে তিনি ভিড়ের মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।এদিকে কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাসভবন থেকে বের হওয়ার সময় অনুসূয়া সাহা নামে ওই নারীর সঙ্গে তার মুখোমুখি অবস্থার সৃষ্টি হয় এবং তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা ওই নারীকে আটক করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

