ছবির ক্যাপশন: .
স্টাফ রিপোর্টার :
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে আবাসন সেবার নামে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এক নারী ভাড়াটিয়া। ফ্ল্যাটের রক্ষণাবেক্ষণের অভাব আর চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করায় প্রতিকার তো মেলেইনি, উল্টো রিয়েল এস্টেট কোম্পানির কর্মকর্তাদের হাতে হেনস্তা ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকির শিকার হতে হয়েছে তাকে। এছাড়াও কোনো কারন ছাড়াই ম্যানাজার ও কেয়ারটেকার কর্তৃক বিচ্ছিন্ন করা হয় তার ফ্লাটের বিদ্যুৎ সংযোগ।
এই পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিতে গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী মোছাঃ নাজমা নাজনীন।
জিডি ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, মোছাঃ নাজমা নাজনীন (৪৭) গুলশান-১ (নিকেতন) এর ২ নম্বর রোডের ৩ নম্বর বাড়ির সি-৯ এবং ডি-৯ ফ্ল্যাটের বাসিন্দা।
গত ৫-৬ মাস ধরে তিনি ‘শামসুল আল-আমিন রিয়েল এস্টেট’-এর ওই দুটি ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন। তার জিডির অভিযোগে উল্লেখ করেন,বর্ণিত আবাসনে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় বসবাসের শুরু থেকেই ফ্ল্যাট দুটিতে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও স্যানিটারি সংক্রান্ত নানা সমস্যা প্রকট হয়ে দাঁড়ায়।
অভিযোগ করায় হেনস্তা ও হুমকি ভুক্তভোগী নারী জানান, এসব নাগরিক দুর্ভোগের কথা বারবার কেয়ারটেকার সাব্বির ও ম্যানেজার সোহানকে জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি। এমনকি তাকে ফ্ল্যাট মালিকের সাথে যোগাযোগের কোনো সুযোগও দেওয়া হয়নি । গত বছরের ১২ অক্টোবর দুপুরে তিনি পুনরায় ম্যানেজার ও কেয়ারটেকারের সাথে যোগাযোগ করলে তারা সমস্যার সমাধান না করে উল্টো তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
একপর্যায়ে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করা হয় বলে তিনি জিডিতে উল্লেখ করেছেন।
এছাড়াও ম্যানেজার ও কেয়ারটেকারের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে পরবর্তীতে নিজ উদ্যোগে ও নিজ খরচে ফ্ল্যাটের প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ সম্পন্ন করতে বাধ্য হন নাজমা নাজনীন। তবে কোম্পানির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এমন মারমুখী আচরণে তিনি বর্তমানে পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নিরাপত্তার স্বার্থে গত বছরের ১৩ অক্টোবর গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১০১০) দায়ের করেন তিনি। গুলশান থানা পুলিশ জিডির সত্যতা নিশ্চিত করে, এই অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ বিষয়ে শামসুল আল আমীন রিয়েল এষ্টেট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
