সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স (ডেগচি) এক মাস ৮ দিন পর নগদ ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে। এরমধ্যে বিশ্বের ১৮টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে গণনা শেষে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন মোট টাকার পরিমাণ ঘোষণা করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাজারের তিনটি ডেগচি ও পাঁচটি দানবাক্সের সিলগালা খোলার পর পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। দিনভর চলে টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী গণনার কাজ।
পঞ্চম দফায় দানবাক্সে পাওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা স্বর্ণ, ৩ ভরি ১৩ আনা রুপা।
একই সময় মাজারের দানবাক্সে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে পাউন্ড (ইংল্যান্ড) ১৪ পাউন্ড, আমেরিকান ২৯ ডলার, ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট, সৌদি ৯৩ রিয়াল পয়সা, ভারতীয় রুপি ৭৬৪৭ রুপি, ওমান মুদ্রা ১৩৫০.৫০ বায়সা, আরব আমিরাত ৬৫ দিরহাম, মালয়েশিয়ান ১১ রিঙ্গিত, থাইল্যান্ড ২০ বাত, শ্রীলঙ্কান ৫০০ রুপি, পাকিস্তান ১০০ রুপি, নেপাল ৫৫ রুপি, রাশিয়ান ৫০ রুবল, মালদ্বীপ ১৫ রুপি, কাতার ১৭ রিয়াল পয়সা, বাহরাইন ১০০ পয়সা, হংকং ১০ ডলার ও ব্রুনাই ১ ডলার।
এসময় নজরানা হিসেবে গরু, ছাগল পাওয়া গেছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
এরআগে আরও চার দফা মাজারের টাকা প্রকেশ্যে গণনা হয়। গত ২২ জুন প্রথম দফায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক যুক্ত হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
গত ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এরপর ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় গণনায় পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা গণনা। চতুর্থ দফার গণনায় নগদ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপা পাওয়া যায়।
