খুনের প্রতিবাদে ডাকা বনধে শুনশান মণিপুরের রাস্তাছবি:এক্স
Published on
:
2 min read
একের পর এক খুনের পর ক্ষোভে ফুঁসছেন মণিপুরের আমজনতা। সোমবার, কাংপোকপি এবং ইম্ফল সীমান্তে হামলায় তিন মহিলার মৃত্যু তাতে ঘি যোগ করেছে। এই খুনের ঘটনার প্রতিবাদে মণিপুর জুড়ে বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া, ৪৮ ঘণ্টার এই বনধে স্তব্ধ মণিপুরের জনজীবন।
তিন বছরের বেশি সময় ধরেই অশান্ত মণিপুর। মেইতেই এবং কুকিদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে সেখানে নিহত হয়েছেন প্রায় ২৬০ জন। আর, গত কয়েক দিন ধরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে মণিপুর। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কুকি এবং নাগাদের মধ্যে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫০ জনের। এর মধ্যে গত এক মাসেই মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪০ জনের। রবিবার রাতে মণিপুরে থৌবাল জেলায় হামলায় মৃত্যু হয়েছে এক জনের। আর সোমবার সকালে ইম্ফল পূর্ব ও কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা নংশুম, খোংবাল থাংখুলে খুন করা হয়েছে মেইতেই জাতির তিন মহিলাকে।
ওই এলাকায় জঙ্গলে কাঠ কুড়োতে গিয়েছিলেন কয়েক জন। সেই সময়ে তাঁদের উপর হামলা চালায় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা। এর পরেই দু'জনের দেহ মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের গেটের সামনে রেখে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। এর জেরে কয়েক জনকে আটক করা হলেও সোমবার রাতে ছেড়ে দেওয়া তাঁদের।
তবে, একের পর এক হামলার জেরে বাসিন্দাদের মনে আতঙ্কের পাশাপাশি বাড়ছে ক্ষোভ। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন বাসিন্দারা।
অন্য দিকে, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে নেটিভ পিপল কমিটি মণিপুর (Native People Committee Manipur)। সোমবারের ওই হামলা এবং খুনের প্রতিবাদে মণিপুর জুড়ে ৪৮ ঘণ্টার এই বনধের ডাক দিয়েছে ওই কমিটি।
ওই কমিটির ডাকা বনধে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। এলাকার অতিরিক্ত নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন করার পাশাপাশি সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
যদিও সেখানে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সব রকমের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়ে মণিপুর সরকার।
