বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনোই আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো জোট গঠন করেনি বলে উল্লেখ করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১২টায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার বিএনপির সাবেক চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির বরগুনার বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হলে সরকারি টাকা দেওয়া হবে না’—এমন বক্তব্য ও সংকীর্ণ দলীয়করণ মূলত ফ্যাসিবাদের পথ তৈরি করে। এ সময় বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার নবম দফার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রীয় কাঠামো সাজানোর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা নেতাদের স্মরণ রাখা উচিত।
বিএনপির বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে জামায়াত নেতা বলেন, ‘‘জামায়াত পূর্বে বিএনপির সঙ্গে চার দল, ১৮ দল ও ২০ দলীয় জোট গঠন করলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো দিনও জোট করেনি। ১৯৯৪-৯৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার জনগণের গণ-আকাঙ্ক্ষা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মানতে না চাওয়ায় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বাম দলসহ সকল বিরোধী দল মিলে কেবল একটি ‘লিয়াজোঁ কমিটি’ গঠন করেছিল। ওই লিয়াজোঁ কমিটির মাধ্যমেই আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হয়, যা কোনো জোট ছিল না।’’
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার জানান, ১৯৮০ সালে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির অধ্যাপক গোলাম আযম প্রথম নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চিন্তাধারা ও রূপরেখা পেশ করেন, যা পরবর্তীতে দেশের সকল দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। জামায়াতের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্বাস আলী খান বেগম খালেদা জিয়ার কাছে গিয়ে তা মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এছাড়া ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের সময় জামায়াত নিঃস্বার্থ সমর্থন দেয় এবং তৎকালীন পার্লামেন্টারি পার্টির লিডার মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নেতৃত্বে সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল জমা দেওয়া হলেও তা আলোচনায় আনা হয়নি।
পরবর্তীতে জোরপূর্বক মাগুরা উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং আন্দোলন তীব্র হওয়ায় ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত স্বল্পমেয়াদী সংসদে বাধ্য হয়ে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস করে সংসদ ভেঙে দেয়। গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, তৎকালীন বিএনপি সরকারের গণবিরোধী অবস্থানের কারণেই পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পেরেছিল। তাই জামায়াত আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছে—এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
